আর মাত্র এক সপ্তাহ পরেই মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এদিন সামর্থ্যবান মুসলমানরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করবেন। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে জমে উঠেছে পশুর হাট।
তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এবারের ঈদ পড়েছে তীব্র গরমের মধ্যে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও দীর্ঘ সময় পরিবহনের কারণে কোরবানির পশু সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামান্য অসতর্কতায় পশুর হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা, হজমের সমস্যা কিংবা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই কোরবানির আগে কয়েকদিন পশুর সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি।
পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করা জরুরি
গরমে পশুর শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই সবসময় পরিষ্কার ও ঠান্ডা পানি পান করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। দিনে কয়েকবার পানির পাত্র পরিষ্কার করা ভালো। দীর্ঘ সময় পশুকে পানিবিহীন রাখা ঠিক নয়।
অতিরিক্ত গরমে পশু হাঁপাতে শুরু করলে, জিহ্বা বের করে শ্বাস নিলে বা অতিরিক্ত দুর্বল দেখালে দ্রুত ছায়াযুক্ত স্থানে নিতে হবে এবং শরীরে পানি ছিটাতে হবে।
রোদ ও গরম থেকে সুরক্ষা
কোরবানির পশুকে খোলা রোদে দীর্ঘ সময় বেঁধে রাখা উচিত নয়। সম্ভব হলে ছায়াযুক্ত, খোলামেলা ও বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখতে হবে। টিনের ঘর বা অতিরিক্ত গরম পরিবেশে পশু দ্রুত অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে দুপুরের তীব্র গরমে পশুকে অযথা হাঁটানো বা ভিড়ের মধ্যে রাখা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা।
খাবারে হঠাৎ পরিবর্তন নয়
হাট থেকে আনার পর অনেকেই পশুকে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ান। এতে হজমের সমস্যা হতে পারে। পশুকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক খাদ্যে অভ্যস্ত করতে হবে।
খড়, ঘাস, ভুসি ও পরিমিত দানাদার খাবার দেওয়া যেতে পারে। পচা, বাসি বা ছত্রাকযুক্ত খাবার দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া অতিরিক্ত ভাত, রুটি বা মানুষের খাবার খাওয়ানোও ঠিক নয়। এক্ষেত্রে, বিক্রেতার কাছ থেকে পশুটির খাদাভ্যাস সম্পর্কে জেনে নেওয়া সবচেয়ে ভালো।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জরুরি
পশু যেখানে রাখা হবে, সেই স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। মলমূত্র জমে থাকলে মাছি, দুর্গন্ধ ও জীবাণুর ঝুঁকি বাড়ে। ভেজা বা কাদাযুক্ত স্থানে দীর্ঘ সময় রাখলে পশুর পায়ে সংক্রমণও হতে পারে।
অনেক সময় গরমে পশুর শরীরে ঘাম ও ময়লা জমে অস্বস্তি তৈরি হয়। প্রয়োজনে পরিষ্কার পানি দিয়ে শরীর ধুয়ে দেওয়া যেতে পারে। তবে ধোয়ার পর যেন দীর্ঘ সময় ভেজা অবস্থায় না থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
অসুস্থতার লক্ষণ দেখলে সতর্ক হোন
পশু খাওয়া বন্ধ করে দিলে, অতিরিক্ত লালা ঝরলে, পাতলা পায়খানা হলে, নাক দিয়ে পানি পড়লে বা অস্বাভাবিক আচরণ করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, অপ্রয়োজনীয় ওষুধ বা স্টেরয়েড ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে পশুর স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
পরিবহনের পর বিশ্রাম দরকার
দূর থেকে আনা পশু দীর্ঘ যাত্রার কারণে ক্লান্ত থাকে। তাই হাট থেকে আনার পরপরই বেশি খাবার না দিয়ে আগে বিশ্রামের সুযোগ দিতে হবে। কয়েক ঘণ্টা স্বাভাবিক পরিবেশে রাখলে পশু ধীরে ধীরে মানিয়ে নেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানি শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি দায়িত্ব ও মানবিকতারও বিষয়। তাই পশুর প্রতি অযত্ন বা অমানবিক আচরণ না করে সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।



