চট্টগ্রামে এবার কোরবানির ঈদে চার লাখ কাঁচা চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন আড়তদাররা। এ লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে আগাম প্রস্তুতি। আড়তদাররা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার লবণের দাম বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেশি। সেই সঙ্গে ঢাকার ট্যানারিগুলোর কাছে বাকিতে দেওয়া চামড়ার এখনও প্রায় ২০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বেশ কয়েক বছর ধরে। এ ছাড়া রয়েছে ট্যানারি সংকট। চট্টগ্রামে এক সময় ২২টি ট্যানারি থাকলেও এখন আছে মাত্র একটি। যে কারণে চট্টগ্রামের আড়তদারদের চামড়া বিক্রিতে ঢাকার ট্যানারির দিকে থাকিয়ে থাকতে হয়।
গত বছরের চামড়া সংগ্রহ ও এবারের লক্ষ্য
চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির হিসাবে, গত বছর চামড়া সংগ্রহ হয়েছিল তিন লাখ ৫৬ হাজার ৫০০টির মতো। যার মধ্যে তিন লাখের বেশি ছিল গরুর চামড়া। এবার লক্ষ্য রয়েছে চার লাখ কিংবা এর আশেপাশে।
সরকার নির্ধারিত চামড়ার দাম
সরকার ঘোষিত চামড়ার দাম অনুযায়ী, এবার ঢাকায় ট্যানারি ব্যবসায়ীদের প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া (লবণযুক্ত) কিনতে হবে ৬২ থেকে ৬৭ টাকায়। ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম হবে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা। এ ছাড়া সারা দেশে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত খাসির চামড়া ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা এবং ছাগলের চামড়া ২২ থেকে ২৫ টাকা দরে কিনবে ট্যানারিগুলো।
আড়তদার সমিতির সভাপতির বক্তব্য
এ প্রসঙ্গে বৃহত্তর চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, ‘কোরবানিতে প্রাণীর চামড়া সংগ্রহের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এবার চার লাখের মতো বা কম-বেশি চামড়া সংগ্রহ করার প্রস্তুতি আমাদের আছে। গতবার সাড়ে তিন লাখের মতো চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘এক সময় চট্টগ্রামে কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতিতে সদস্য সংখ্যা ছিল ১১২ জন। তারা প্রত্যেকেই কোরবানির পাশাপাশি সারাবছরই চামড়া সংগ্রহ করতেন। গত কয়েক বছর ধরে চামড়ার দাম কমে যাওয়াসহ অব্যাহত লোকসানের কবলে পড়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে চামড়া সংগ্রহ করেন এমন আড়তদার আছেন মাত্র ৪০ জনের মতো। এ ছাড়াও ১৫ উপজেলা এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামে কোরবানিতে চামড়া সংগ্রহ করে লবণ দিয়ে থাকে এ ধরনের আরও দেড়শ আড়তদার রয়েছেন।’
তিনি আরও জানান, ‘চট্টগ্রামে এক সময় ২২টি ট্যানারি ছিল। পর্যায়ক্রমে তা কমে বর্তমানে একটিমাত্র ট্যানারি চালু আছে। ওই ট্যানারি চট্টগ্রামসহ অন্যান্য জেলা থেকে কোরবানিতে এক লাখের মতো চামড়া কিনে থাকে। যার কারণে আমাদের লবণ দেওয়া চামড়া বিক্রিতে পুরোপুরি নির্ভর করতে হয় ঢাকার ট্যানারিগুলোর ওপর। চট্টগ্রামের ৫০ জনের মতো আড়তদার ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে পাওনা আছেন অন্তত ২০ কোটি টাকা। ২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চামড়া বাবদ পাওনা তারা শোধ করছে না। এ কারণে পুঁজি হারিয়ে এখন সর্বস্বান্ত হয়ে এ পেশা ছেড়েছেন অনেক আড়তদার।’
লবণের দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ
আমিনুল ইসলাম নামে অপর চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, ‘এবার লবণের ভালো উৎপাদন হলেও দাম নেওয়া হচ্ছে বেশি। গত বছর ৭৪ কেজি ওজনের এক বস্তা লবণের দাম ছিল ৭৮০ থেকে ৭৯০ টাকা। এবার প্রতি বস্তার দাম চাওয়া হচ্ছে ৯৫০ টাকা। অথচ গেল রমজানের সময়ে প্রতি বস্তা লবণের দাম ছিল ৫৮০ টাকা করে। একটি চামড়ায় ১০ কেজির মতো লবণ প্রয়োজন হয়। এক বস্তা ৭-৮টি চামড়ায় দেওয়া যায়। হঠাৎ লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাঁচা চামড়ায় ব্যয় বাড়বে। কোনও কারণ ছাড়াই লবণের দাম বাড়ানো হয়েছে।’
কোরবানির প্রাণীর চাহিদা
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলমগীর জানান, চট্টগ্রামে এবার কোরবানিতে মহানগরী এবং ১৫টি উপজেলায় কোরবানির প্রাণীর চাহিদা রয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি।



