সাপ্লিমেন্ট নয়, চুল পড়া রোধ করবে ৬টি প্রাকৃতিক খাবার
সাপ্লিমেন্ট নয়, চুল পড়া রোধ করবে ৬টি খাবার

ভারতীয় পুষ্টিবিদ লোভনীত বাত্রা সম্প্রতি এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানিয়েছেন, চুল পড়া রোধে বাজার চলতি সাপ্লিমেন্টের পরিবর্তে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কিছু প্রাকৃতিক খাবার যোগ করলেই যথেষ্ট। তাঁর মতে, চুলের সমস্যা মূলত পুষ্টির ঘাটতির সংকেত, যা খাদ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে সহজেই সমাধান করা যায়।

চুলের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি

পুষ্টিবিদ বাত্রা ব্যাখ্যা করেন, ‘চুলের সঠিক বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত পুষ্টি, প্রোটিন, আয়রন, জিংক, ভিটামিন সি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন বি-১২ এবং প্রয়োজনীয় ক্যালরির প্রয়োজন। কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবার একাই চুল পড়া বন্ধ করতে পারে না। একইভাবে, শরীরে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘাটতি না থাকলে সাপ্লিমেন্ট খাওয়ারও কোনো প্রয়োজন নেই।’

৬টি প্রাকৃতিক খাবার

বায়োটিনের বিকল্প হিসেবে সূর্যমুখীর বীজ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। প্রতিদিন ১ টেবিল চামচ সূর্যমুখীর বীজ ভিটামিন ই, জিংক, সেলেনিয়াম ও লিনোলিক অ্যাসিড সরবরাহ করে, যা চুলের বৃদ্ধি ও আর্দ্রতা বজায় রাখে। আয়রনের ঘাটতি পূরণে সজনে পাতার গুঁড়োকে ‘সুপারফুড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ভিটামিন এ, সি, ই, জিংক, আয়রন ও অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে, যা চুল পড়া কমায় ও গোড়া শক্ত করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রোটিন পাউডারের বিকল্প হিসেবে প্রতিদিন ১০০ গ্রাম পনির খাওয়ার কথা বলা হয়েছে। পনিরের প্রোটিন, ভিটামিন ই ও সেলেনিয়াম চুলের ফলিকল শক্তিশালী করে। ভিটামিন সি-এর জন্য আমলকী অত্যন্ত কার্যকরী। এটি চুলের গোড়া শক্ত করে, চুল ঘনায়, খুশকি দূর করে ও অকালপক্বতা রোধ করে।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে তিসির বীজ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ১ টেবিল চামচ তিসির বীজ চুলের ফলিকলকে পুষ্ট করে, বৃদ্ধি বাড়ায় ও মাথার ত্বকের প্রদাহ কমায়। ভিটামিন বি-১২-এর জন্য টক দই খাওয়া উচিত। এটি প্রাকৃতিক ‘ডিপ কন্ডিশনার’ হিসেবে কাজ করে, রুক্ষতা নিয়ন্ত্রণ করে ও খুশকি দূর করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সতর্কতা

পুষ্টিবিদ বাত্রা আরও মনে করিয়ে দেন, যদি চুল পড়া হঠাৎ বেড়ে যায় বা গুচ্ছ আকারে পড়ে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে আয়রন/ফেরিটিন, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি, থাইরয়েড বা হরমোনজনিত সমস্যা শনাক্ত করা উচিত।