কিচেন ক্যাবিনেট: প্রকারভেদ ও বাস্তবতা
কিচেন ক্যাবিনেট: প্রকারভেদ ও বাস্তবতা

বহুল আলোচিত একটি কিচেন ক্যাবিনেট নিয়ে এখন শুধুই ধোঁয়াশা। কী সেই কিচেন ক্যাবিনেট? কেমন ছিল সেটা দেখতে? কী কী (পড়ুন কে কে) ছিলেন সেখানে? রহস্যে ঘেরা সেই ক্যাবিনেট বাদেও কিচেন ক্যাবিনেটের রয়েছে অনেক রকমফের। এই ক্যাবিনেট দেখে অনেক কিছু বোঝা যায়, চেনা যায়। চলুন, জেনে নেওয়া যাক, কিচেন ক্যাবিনেট আসলে কত প্রকার ও কী কী।

উচ্চবিত্তের কিচেন ক্যাবিনেট

উচ্চবিত্তের কিচেন ক্যাবিনেট শুধু রান্নাঘর গুছিয়ে রাখার জন্যই তৈরি হয় না, বাড়ির মালিকের রুচি ও আভিজাত্যকেও তুলে ধরে। কয়েক কোটি টাকার বাড়ি তৈরির আগে থেকেই আর সবকিছুর সঙ্গে এই ক্যাবিনেটগুলোও ডিজাইন করা হয়। হতে পারে সেই বাড়ির মালিক কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের পিয়ন কিংবা ঝাড়ুদার। তবু কৌতূহলী হয়ে কেউ জিজ্ঞাসা করে না, ‘বেতন কত পান?’ যা–ই হোক, এই ক্যাবিনেটগুলো দামি ও মজবুত কাঠ কিংবা প্লাইউডের তৈরি। চকচকে পালিশ করা। ক্যাবিনেটের প্রতিটি তাকেই সংযুক্ত থাকে এলইডি বাল্ব। ভেতরের কৌটাগুলোও দামি পোরসেলিন কিংবা সিরামিকের। সেগুলোয় থাকে দেশি–বিদেশি নানান রকম মসলা, সস ও হার্বস। ভেতরের কোনো কিছুই বাইরে থেকে দেখা যায় না। ক্যাবিনেটগুলো সব সময় থাকে ঝকঝকে, তকতকে ও ফকফকে!

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মধ্যবিত্তের কিচেন ক্যাবিনেট

এ ধরনের কিচেন ক্যাবিনেটগুলো বাড়ি তৈরির শুরুতেই তৈরি করা হয় না। বাড়ি তৈরির সময়ে মনে হয়, কী দরকার ওসব ক্যাবিনেট–ফ্যাবিনেট বানিয়ে বাজে খরচ করার! রান্নাঘর অত সাজিয়ে কী হবে? তারপর রান্নাঘরে দিনের পর দিন কাজ করতে গিয়ে গৃহকর্ত্রীর মুখ বেজার। কোথায় রাখবেন এত মসলার কৌটা ও বোতল? শেষমেশ একটু পয়সাকড়ি জমিয়ে কাঠমিস্ত্রি ডেকে একদিন মহাসমারোহে শুরু হয় কিচেন ক্যাবিনেট বানানোর কাজ। কখনো কখনো ক্যাবিনেটের কাঠ নেওয়া হয় বাতিল কোনো আসবাব থেকে। টানা কয়েক দিন বাসার ভেতর করাতের ক্যাঁচক্যাঁচ আর ড্রিল মেশিনের ঘটরমটর শেষে তৈরি হয় কিচেন ক্যাবিনেট। সাধের ক্যাবিনেট বানানো শেষ হলে গৃহকর্ত্রী কিছুটা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকেন। একবার মনে হয়, ডান দিকটা বাঁকা। পরক্ষণেই মনে হয়, বাঁ দিকটা দেবে গেছে। শেষমেশ চিন্তাভাবনা বাদ দিয়ে গৃহকর্ত্রী ব্যস্ত হয়ে পড়েন মসলাভর্তি প্লাস্টিকের কৌটা ও কাচের বোতল দিয়ে ক্যাবিনেট ভর্তি করতে। কয়েক দিনের মধ্যেই অবশ্য ক্যাবিনেটের কলকবজাগুলো ঢিলা হতে থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিম্নমধ্যবিত্তের কিচেন ক্যাবিনেট

এগুলো মূলত ক্যাবিনেট নয়। নিউমার্কেট কিংবা ফার্মগেট থেকে কেনা স্টিল কিংবা প্লাস্টিকের র্যাক। চুলা থেকে বের হওয়া কালিঝুলি লেগে এই র্যাকগুলো হয়ে যায় কালো ও চটচটে। এই ক্যাবিনেট পরিষ্কার করতে গৃহকর্ত্রীদের প্রায়ই বিশেষ অভিযানে নামতে হয়।

নিম্নবিত্তের কিচেন ক্যাবিনেট

সরকারি কিচেন ক্যাবিনেট যেমন জনগণের সামনে অদৃশ্য, তেমনি গরিবের কিচেন ক্যাবিনেটও বাস্তবে অদৃশ্য। পারতপক্ষে কিচেনই থাকে না, তার আবার ক্যাবিনেট! চুলার একপাশে একটি কি দুটি ভাঙা পাতিল, একটা বঁটি আর কালো কুচকুচে একটা খুন্তি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সেগুলো প্রায়ই অব্যবহৃত পড়ে থাকে।

সরকারি কিচেন ক্যাবিনেট

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিচেন ক্যাবিনেট। বাকি সব কিচেন ক্যাবিনেট কীভাবে টিকে থাকবে, তা মূলত নির্ভর করে এই ক্যাবিনেটের ওপর। জনগণের সামনে অদৃশ্য এই ক্যাবিনেটই ঠিক করবে, আপনি কেমন থাকবেন কিংবা আদৌ থাকবেন কি না! এই ক্যাবিনেটের সদস্য হতে হলে দেশি–বিদেশি শক্তির কাছে বিক্রি হওয়ার প্রবল ইচ্ছা থাকতে হবে। অর্জনের ঝুলিতে যদি আন্তর্জাতিক কয়েকটি পুরস্কার থাকে, তাহলে তো কেল্লা ফতে! এই ক্যাবিনেটে যাঁরা থাকেন, চেহারার জেল্লা আর পকেট–ভ্যানিটি ব্যাগের স্বাস্থ্য দেখলেই তাঁদের চেনা যায়। একসময় বাসভাড়া না দিতে পারলেও এই ক্যাবিনেটে নাম লেখানোর পরেই তাঁরা মাংস খেতে চলে যান ফাইভ স্টার হোটেলে। তাঁদের সহকারীরাও কয়েক শ কোটি টাকায় গড়াগড়ি খান। এমনকি লোকমুখে শোনা যায়, তাঁরা ভিক্ষা দিলে ভিখারিরাও ফ্ল্যাট কিনে ফেলে! যদিও এত টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তাঁরা সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের কপর্দকহীন প্রমাণে উঠেপড়ে লেগে যান। তবে এই ক্যাবিনেটে জায়গা না পাওয়া হিংসুক ও নিন্দুকেরা প্রায়ই তাঁদের হাঁড়ি হাটে ভেঙে দেয়।