ঈদ ফিয়েস্তায় দেশীয় ফ্যাশনের মেলা: জামদানি থেকে নকশিকাঁথা, গয়না ও খাবারের সমাহার
ঈদ ফিয়েস্তায় দেশীয় ফ্যাশন মেলা: জামদানি, গয়না ও খাবারের প্রদর্শনী

ঈদ ফিয়েস্তায় দেশীয় ফ্যাশনের উৎসব: ৫৮টি ব্র্যান্ডের অংশগ্রহণ

ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে চলছে 'হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তা ২০২৬' মেলা, যেখানে ৫৮টি দেশীয় ব্র্যান্ড তাদের ব্যতিক্রমী পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছে। উদ্যোক্তারা তাঁদের কাজে নতুনত্ব আনতে জামদানি, নকশিকাঁথা, গয়না ও খাবারের মতো ঐতিহ্যবাহী উপকরণকে আধুনিক ফ্যাশনের সঙ্গে মিশিয়েছেন।

জামদানি ও নকশিকাঁথার আধুনিক রূপ

উদ্যোক্তা আফরীন চৌধুরীর 'দ্য জামদানি' শাড়ি ছাড়াও এনেছে ছেলেদের জামদানির পাঞ্জাবি ও ফতুয়া। মেয়েদের জন্য রয়েছে জামদানির কাফতান, কুর্তা ও ফতুয়া। অন্যদিকে, 'নকশা মিস্ত্রি' নকশিকাঁথার ফিউশনধর্মী কাজ নিয়ে এসেছে, যেখানে শার্টের হাতা, পকেট ও পায়জামায় নকশিকাঁথার ছোঁয়া দেওয়া হয়েছে। প্যাচওয়ার্কের কাজও রয়েছে এখানে।

গয়না ও আনুষঙ্গিক পণ্যের বৈচিত্র্য

মেলায় গয়নার স্টলগুলিতে পিতলের ওপর রুপার আস্তরণ দেওয়া নকশা থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক পাথরের তৈরি গয়না পাওয়া যাচ্ছে। 'দয়ীতা' জামদানি, নকশিকাঁথা ও গামছা দিয়ে হাতে তৈরি গয়না এনেছে, যেখানে ১০ ধরনের ডিজাইনার টিপ রয়েছে। 'কাদম্বরী' ঐতিহ্যবাহী মোটিফগুলোকে হাল আমলের উপযোগী করে কানটানা দেওয়া দুল ও নথ উপস্থাপন করেছে।

খাবার ও অন্যান্য পণ্যের স্টল

খাবারের দিক থেকে 'আঁচারি'র স্টলে তিন্তিড়ী, চালতালীলার মতো বাহারি আচার পাওয়া যাচ্ছে। 'নবাবী' বিরিয়ানি, তেহারি ও শর্ষে ইলিশের মতো রেডি-টু-ইট খাবার নিয়ে হাজির হয়েছে। এছাড়া, 'রোদচশমা' কাঠের ফ্রেমের চশমা এবং 'দীঘল' ভেষজ তেল ও চিরুনি প্রদর্শন করছে।

উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতি ও মেলার উদ্দেশ্য

হাল ফ্যাশনের কনসালট্যান্ট শেখ সাইফুর রহমান বলেন, 'ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আমাদের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং তাঁরা দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছেন। এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা তাঁদের সেই স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করছি।' মেলার শেষ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন এবং দর্শনার্থীরা কেনাকাটার মাধ্যমে র্যাফল ড্র ও কাপল কুপন জেতার সুযোগ পাবেন।

মেলা আজ সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে, যেখানে দেশীয় ফ্যাশনের এই সমৃদ্ধ প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।