প্রযুক্তি-ভিত্তিক কথাসাহিত্যের পথিকৃৎ রাহিতুল ইসলাম পেলেন 'হুজ হুজ বাংলাদেশ' সম্মাননা
বাংলাদেশের খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক রাহিতুল ইসলাম সাহিত্যে তার অসামান্য অবদানের জন্য মর্যাদাপূর্ণ 'হুজ হুজ বাংলাদেশ–২০২৬' পুরস্কার লাভ করেছেন। তিনি 'কলা ও সাহিত্য' বিভাগে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন, যা তার সাহিত্যিক সাফল্যের একটি উজ্জ্বল স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঢাকায় আয়োজিত হয় সম্মাননা অনুষ্ঠান
শনিবার ঢাকার হোটেল শেরাটনে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পুরস্কার বিতরণী আয়োজন সম্পন্ন হয়। এই অনুষ্ঠানে শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও সাংবাদিকতা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা মোট ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মানিত করা হয়। অভিনেত্রী ফরিদা আখতার পপি (ববিতা) সহ আরও অনেকেই এবারের আয়োজনে কলা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে পদক লাভ করেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী। তিনি খ্যাতিমান অভিনেত্রী গুলশান আরা আক্তার চম্পার সাথে একত্রে পুরস্কারটি রাহিতুল ইসলামের হাতে তুলে দেন। এই উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রী সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় অবদান রাখা সকলকে অভিনন্দন জানান।
প্রযুক্তি-ভিত্তিক কথাসাহিত্যে রাহিতুল ইসলামের অগ্রণী ভূমিকা
রাহিতুল ইসলামকে বাংলাদেশে প্রযুক্তি-ভিত্তিক কথাসাহিত্য (টেক-ফিকশন) এর একটি নতুন ধারা সৃষ্টির পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সহজ ও সাবলীল ভাষায় ফ্রিল্যান্সিং ও প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে গল্প ও উপন্যাস রচনা করে আসছেন, যা তরুণ পাঠকদের ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- সুখবর বাংলাদেশ
- চার মাস্টার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার
- ফ্রিল্যান্সার নাদিয়া
- আউটসোর্সিং ও ভালোবাসার গল্প
- হ্যাকার হিমেল
- তথ্য প্রযুক্তি খাতের নায়ক সিরিজ
- কল সেন্টারের অপরাজিতা
- বদলে দেওয়ার গান
- ভালোবাসার হাট বাজার
- দুই ভুবনের মানুষ
- এবং সাম্প্রতিক আলোচিত উপন্যাস বদলের কারাবাস
তার অনেক গল্প জনপ্রিয় নাটক ও টেলিফিল্মে রূপান্তরিত হয়েছে, যা দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
মানবতার সেবায় সাহিত্যকেই শ্রেষ্ঠ মনে করেন রাহিতুল
পুরস্কার প্রাপ্তিতে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রাহিতুল ইসলাম বলেন, 'মানবতার সেবায় নিবেদিত সাহিত্যই লেখালেখির প্রকৃত রূপ।' তিনি তার সাম্প্রতিক উপন্যাস 'বদলের কারাবাস' এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, যা ভুল পরিচয়ের কারণে ২০০৮ সালে ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া বদল ফরাজির বাস্তব জীবনের ঘটনা অবলম্বনে রচিত।
এই উপন্যাসে ফুটে উঠেছে কীভাবে বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরে আসার পরও বদল ফরাজি দীর্ঘ বছর কারাগারে বন্দি ছিলেন। রাহিতুল ইসলামের এই রচনা সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার বিষয়ে গভীর চিন্তার প্রতিফলন ঘটায়।
'হুজ হুজ' পুরস্কারের ঐতিহ্যবাহী ইতিহাস
উল্লেখ্য, 'হুজ হুজ' উদ্যোগটি ১৮৪৯ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দিয়ে আসছে। বাংলাদেশে এই পুরস্কারটি ২০১৬ সাল থেকে দ্বিবার্ষিকভাবে আয়োজিত হয়ে আসছে, যা দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা দেয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
রাহিতুল ইসলামের এই সম্মাননা প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনে প্রযুক্তি-ভিত্তিক রচনার গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এবং নতুন প্রজন্মের লেখকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।



