উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর কালজয়ী লোককাহিনী: 'পান্তাবুড়ীর কথা'
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ও মজার লোককাহিনী 'পান্তাবুড়ীর কথা'। এই গল্পটি লিখেছেন বিখ্যাত সাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, যা তাঁর 'টুনটুনির বই'-এ সংকলিত হয়েছে। গল্পটি একটি সরল কিন্তু শিক্ষামূলক কাহিনী বর্ণনা করে, যা ছোট-বড় সকলের কাছেই প্রিয়।
পান্তাবুড়ীর সমস্যা ও রাজার কাছে যাত্রা
গল্পের মূল চরিত্র পান্তা বুড়ী, যে পান্তাভাত খেতে অত্যন্ত ভালোবাসে। কিন্তু এক চোর প্রতিদিন তার পান্তাভাত চুরি করে খেয়ে যায়, যা বুড়ীকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য, সে লাঠি ভর দিয়ে রাজার কাছে নালিশ করতে রওনা হয়। পথে, সে বিভিন্ন বস্তু ও প্রাণীর সাথে সাক্ষাৎ করে, যারা তার সাহায্য করতে চায়।
পথে পাওয়া সহায়কদের সাথে সাক্ষাৎ
প্রথমে, পুকুর ধারে একটি শিঙিমাছ তাকে দেখে জিজ্ঞাসা করে, 'পান্তাবুড়ী, কোথায় যাচ্ছ?' বুড়ী তার সমস্যার কথা বললে, শিঙিমাছ তাকে ফিরে যাবার সময় নিজেকে সঙ্গে নিয়ে যেতে বলে, যাতে তার ভালো হয়। একইভাবে, বেলতলায় পড়ে থাকা একটি বেল, পথের ধারের গোবর, এবং পরে একটি ক্ষুরও একই প্রস্তাব দেয়। পান্তাবুড়ী সবাইকে 'আচ্ছা' বলে রাজি হয়।
রাজার বাড়িতে ব্যর্থতা ও বাড়ি ফেরা
রাজার বাড়ি পৌঁছে, পান্তাবুড়ী দেখে রাজামশাই বাড়ি নেই, তাই সে নালিশ করতে পারে না। হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরার সময়, তার শিঙিমাছ, বেল, গোবর, এবং ক্ষুরের কথা মনে পড়ে। সে তাদের সবাইকে তার থলেতে করে নিয়ে আসে। বাড়ির আঙ্গিনায় পৌঁছানোর পর, ক্ষুর তাকে ঘাসের উপর রাখতে বলে, গোবর পিঁড়ির উপর রাখতে বলে, বেল উনুনের ভিতরে রাখতে বলে, এবং শিঙিমাছ পান্তাভাতের ভিতরে রাখতে বলে। বুড়ী সবাইকে নির্দেশমতো স্থাপন করে।
চোরের শাস্তি ও গল্পের সমাপ্তি
রাতে, চোর আবার এসে পান্তাভাত চুরি করতে হাঁড়িতে হাত ঢুকায়, যেখানে শিঙিমাছ তার হাতে কাঁটা ফুটিয়ে দেয়, ফলে চোরের চোখ দিয়ে জল পড়তে থাকে। ব্যথায় কাঁদতে-কাঁদতে চোর উনুনের কাছে যায়, যেখানে বেল ফেটে তার চোখেমুখে লাগে। ভয়ে ছুটে বেরোতে গিয়ে সে গোবরে পা হড়কে বসে পড়ে, এবং পরে ঘাসে পা মুছতে গিয়ে ক্ষুরে কেটে যায়। চোরের চিৎকার শুনে পাড়ার লোকজন ছুটে এসে তাকে ধরে ফেলে এবং শাস্তি দেয়। এইভাবে, পান্তাবুড়ী চোরের থেকে প্রতিশোধ নেয় এবং গল্পটি একটি মজার ও শিক্ষামূলক সমাপ্তি পায়।



