সিলেট বন্ধুসভার ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্রে জহির রায়হানের 'কয়েকটি মৃত্যু' উপন্যাসের আলোচনা
সিলেট বন্ধুসভার ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্রে জহির রায়হানের উপন্যাস আলোচনা

সিলেট বন্ধুসভার ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্রে জহির রায়হানের 'কয়েকটি মৃত্যু' উপন্যাসের আলোচনা

সিলেট বন্ধুসভা সম্প্রতি একটি ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্রের আয়োজন করেছে, যেখানে জহির রায়হানের কালজয়ী উপন্যাস 'কয়েকটি মৃত্যু' নিয়ে গভীর আলোচনা ও বিশ্লেষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানটি ৪ এপ্রিল তারিখে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হয়, যেখানে সাহিত্যপ্রেমী ও বুদ্ধিজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।

জহির রায়হান: একজন বহুমুখী প্রতিভা

জহির রায়হান ছিলেন একজন খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক এবং গল্পকার, যাঁর জীবন ঘটনাবহুল ও সংগ্রামমুখর ছিল। তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাবের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের পথিকৃত হিসাবে, স্বাধীনতা-পূর্ববতী সময়ে তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো পূর্ব বাংলার মানুষের শোষণ ও বঞ্চনার জীবন্ত চিত্র তুলে ধরে। আজও তিনি বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে চির অমর হয়ে আছেন।

'কয়েকটি মৃত্যু' উপন্যাস: একটি গভীর সামাজিক প্রতিফলন

'কয়েকটি মৃত্যু' উপন্যাসটি ষাটের দশকের একটি একান্নবর্তী পরিবারের গল্পকে কেন্দ্র করে রচিত, যা একটি রাত, কয়েকটি দুঃস্বপ্ন এবং মৃত্যুভয়ের আগ্রাসন নিয়ে আবর্তিত হয়েছে। বাংলার একান্নবর্তী পরিবারগুলোকে অনেক শাখা-প্রশাখায় পরিপূর্ণ বটবৃক্ষের সঙ্গে তুলনা করা যায়, যেখানে প্রতিটি শাখা-প্রশাখা কিংবা নব্য পল্লবের পরিস্ফুটন আলাদা আলাদা গল্প ও স্বতন্ত্র সত্তা বহন করে। এই উপন্যাসে, বৃদ্ধ আহমদ আলী শেখের চরিত্রের মাধ্যমে সেই পরিবারের ধারক কাণ্ড মূর্ত হয়ে উঠেছে। গল্পের প্রথম ভাগে অল্প কিছু ভাষাতেই লেখক পুরো পরিবারটিকে পাঠকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, সন্ধ্যার অন্ধকারে গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা দালানকোঠা, ছোটদের পড়ার টেবিলে ঢুলু ঢুলু চোখ এবং বৈঠকখানায় খবরের কাগজ নিয়ে বসে থাকা আহমদ আলী শেখের চিত্র অঙ্কন করেন। জহির রায়হান চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়েই নিপুণ শিল্পীর মতো মৃত্যুভয় ও আপনজনের স্বার্থান্বেষী মনোভাবকে জীবন্ত করে তুলেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাঠচক্রের অংশগ্রহণকারীদের মতামত

বন্ধু অম্লান রায় তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, 'জহির রায়হানের লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আমাদের মনের গভীরে থাকা কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সূক্ষ্ম প্রতিবাদ। এই উপন্যাসটিতেও সেই ধারার ব্যতিক্রম হয়নি।' অপরদিকে, বন্ধু কিশোর দাশ বলেন, 'লেখকের রচনাবলিগুলো তৎকালীন সমাজের জীবন্ত দর্পন হিসেবে কাজ করে, যা আজও প্রাসঙ্গিক।' এই ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু গায়েত্রী বর্মণ, রেজাউল ইমন, সাজন বিশ্বাস, অমিত দেবনাথ, প্রণব চৌধুরী, প্রত্যাশা তালুকদার, অর্ক তালুকদার, মিনথিয়া রহমান, প্রাণেশ দাসসহ অন্যান্য বন্ধুরা, যারা উপন্যাসটির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করেন।

সিলেট বন্ধুসভার কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সিলেট বন্ধুসভার পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক এই অনুষ্ঠানের সফলতা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে আরও এমন সাহিত্যিক আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানান। এই সংগঠনটি নিয়মিতভাবে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, যা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে প্রশংসা অর্জন করেছে। পাঠচক্রের মাধ্যমে সদস্যদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময় ও সমালোচনামূলক চিন্তার বিকাশ ঘটানো হয়, যা সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।