কাঠমান্ডু শহরের অর্ধেক সৌন্দর্য ও ধূলিমলিন পথ
কাঠমান্ডু শহরের অর্ধেক সৌন্দর্য আকাশপথ থেকে উপভোগ করা যায়, আর বাকি অর্ধেক দেখা মেলে মাটিতে পা ফেললে। শহরে পৌঁছানোর পথে পাহাড়-পর্বত ও গিরিপথের দৃশ্য জটিল মনে হলেও আদতে শহরটি ছিমছাম। সুউচ্চ ভবন কম, ধুলো-ময়লার বাড়াবাড়িও সীমিত, তবে নির্মাণাধীন সাইটের ধুলো কোথাও কোথাও পথঘাটে ছড়িয়ে পড়ে। নভেম্বরের বিকেলে তাপমাত্রা নামতে শুরু করলে ধুলোর পরিমাণ বেড়ে যায়, স্কুটির চালক ও আরোহীরা মুখে রুমাল বেঁধে চলাচল করে।
বাবরমহলের যাত্রা ও শিল্প প্রদর্শনী
ধূলিমলিন পথ পেরিয়ে বাবরমহলে পৌঁছাতে উঁচু-নিচু পথ, নদী ও লোকালয় পার হতে হয়। রুদ্রমতি ব্রিজ পার হয়ে ধোবিখোলা নদীর দুই কূলে ঘর-গেরস্থালির নোংরা দেখে জামিলের মনে হয় নদীটি চিরদুঃখী বুড়িগঙ্গার ভাই। বাবরমহল পরিপাটি ও সাফসুতরো, পুরোনো স্থাপত্যকৌশলে নির্মিত, সাদা চুনকামে আদি নকশাগুলো স্পষ্ট। ডেলিগেটদের আগমনে বাড়তি যত্ন নেওয়া হয়েছে, রেস্টুরেন্টে বেয়ারাদের দৌড়ঝাঁপ ও আঁটসাঁট পোশাকে সুন্দরী বেয়ারা মদের গ্লাস এগিয়ে দেয়। বিকেলের আলো নিভে এলে সোডিয়াম বাতি জ্বলে, কনকনে শীতে আগুন জ্বালিয়ে হাত ঘষে উষ্ণতা খোঁজা হয়। ডিনারের আগে আর্ট গ্যালারি পরিদর্শনের ঘোষণা আসে।
সিদ্ধার্থ আর্ট গ্যালারি ও নীল চোখের তরুণী
সিদ্ধার্থ আর্ট গ্যালারিতে দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের তরুণ শিল্পীদের শিল্পকর্ম ঝুলছে। এক শিল্পী ইন্টারনেট ক্যাবল ও ধাতব চড়ুই স্থাপন করে দর্শনার্থীদের মনোযোগ বিযুক্ত করে। দেয়ালে নীল চোখের তরুণীর চিত্রকর্ম দেখা যায়, যেখানে তরুণীর শরীরে নীলজলের টেরাকোটা, নীলসমুদ্র চুল, এবং পোশাকে উৎকীর্ণ মাছ। জামিল ছবিটিকে "মাছের মা" নাম দেয়, এবং দেখে মাছেদের অশান্ত দৌড় ও তরুণীর উদ্বিগ্ন মুখ।
মাছের মায়ের গল্প ও সন্তানদের যাত্রা
জামিল অনুভব করে মাছের মা সন্তানদের সমুদ্রে গল্প সংগ্রহে পাঠাচ্ছে, গল্প না পাওয়া পর্যন্ত ফিরে আসার শর্ত দিচ্ছে। মা জানায়, শেষ সন্তান ফিরলে তার জীবনের শেষ দিন হবে, যা সন্তানদের উভয় সংকটে ফেলে। গুলেছা প্রথম ফিরে আসে, সমুদ্রের গল্প নিয়ে, যেখানে জেনিফারের বোন সুনামিতে হারিয়ে যায় এবং সমুদ্রের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে। ইলিশা প্রেমের গল্প বলে, যেখানে আরজিনা সূতিকা রোগে মারা যায় এবং জামাল ফকিরের অপেক্ষার কাহিনী বর্ণনা করে। অন্যান্য মাছেরা আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান থেকে বৈচিত্র্যময় গল্প নিয়ে ফিরে।
মেনির গল্প ও মতিলালের অভিজ্ঞতা
মেনি এক নির্জন বাড়ির গল্প বলে, যেখানে মতিলাল নামক এক ব্যাচেলর অশরীরী উপস্থিতি ও গজার মাছের সাথে মুখোমুখি হয়। ঘটনা চেপে যাওয়া সত্ত্বেও ভোগান্তি তার পিছু ছাড়ে না, মাছটি বারবার দেখা দেয়। মাছের মা সব গল্প শুনে বলে, মাছ কেবল মাছের গল্প করবে, এবং সে নিজে ফিরতে হবে, কারণ অন্যের মতো তারও অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। জামিল দেখে মাছের মা স্বপ্নের ডানায় ভর করে আশা ভঙ্গের দায় নিয়ে উড়ে চলে।



