ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমির ৪৩তম বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত, আহমদ রফিকের স্মরণে বিশেষ আয়োজন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমির ৪৩তম বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমির ৪৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা সফলভাবে সম্পন্ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমির ৪৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের সভাটি বিশিষ্ট লেখক-গবেষক, ইতিহাসবিদ, কবি ও ভাষা সৈনিক আহমদ রফিকের স্মরণে বিশেষভাবে আয়োজন করা হয়, যা সংগঠনের দীর্ঘ ঐতিহ্যকে সম্মান জানায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন, যিনি সাহিত্যিক সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব দেন।

সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ও অংশগ্রহণ

সভার শুরুতে সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন বার্ষিক প্রতিবেদন পাঠ করেন, যা সংগঠনের গত বছরের অর্জন ও কার্যক্রম তুলে ধরে। এরপর, বিগত বছরে মৃত্যুবরণ করা গুণিজনদের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয় এবং তাদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করা হয়, যা সভার মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে। বার্ষিক সাধারণ সভার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আবদুল হান্নান খন্দকার, যিনি শিক্ষা ও সাহিত্যের সমন্বয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনা সভা ও বিশিষ্ট বক্তাদের অংশগ্রহণ

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মিজানুর রহমান শিশির এবং প্রখ্যাত লেখক জিয়াউদ্দিন ঠাকুর। বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আছরারুন নবী মোবারক, ওয়াছেল সিদ্দিকী, সামসুদ্দিন আহম্মেদ, বজলুর রহমান, নারী নেত্রী ফজিলাতুন নাহার, ফারুক আহামদ ভূইয়া, অধ্যাপক শেখ জাহাঙ্গীর, ডা. শ্যামল দাশ গুপ্ত, মুসলেম উদ্দিন সাগর, এডাব সভাপতি এস. এম শাহীন, এবং মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ। তাদের বক্তব্যে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজ উন্নয়নে একাডেমির ভূমিকা প্রশংসিত হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পদক প্রদান ও সম্মাননা

৪৩ বছরের পথ চলার জন্য বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ, এই বছর সাহিত্য একাডেমি পদক ও সম্মাননা প্রদান করা হয় ডা. আহমদ আল-মামুন এবং কথাসাহিত্যিক নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীরকে। এই সম্মাননা সাহিত্য ক্ষেত্রে তাদের অনবদ্য অবদানকে স্বীকৃতি দেয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। বার্ষিক সাধারণ সভায় সাহিত্য একাডেমির শতাধিক নবীন ও প্রবীণ সদস্য উপস্থিত ছিলেন, যা সংগঠনের জনপ্রিয়তা ও সম্প্রসারণের পরিচয় বহন করে।

এই সভাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সাহিত্য চর্চাকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।