ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর হৃদয়গ্রাহী চিঠি: বিদেশে থেকেও স্ত্রীর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা
বাংলা সাহিত্য ও ভাষাবিজ্ঞানের অগ্রদূত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ব্যক্তিগত জীবনের একটি মর্মস্পর্শী দিক উন্মোচিত হয়েছে। বিদেশে পড়াশোনার সময় তিনি তার স্ত্রী মরগুবা খাতুনকে লেখা একাধিক চিঠি প্রকাশ পেয়েছে, যেগুলোতে ফুটে উঠেছে তার গভীর ভালোবাসা, স্নেহ ও পরিবারের প্রতি মমত্ববোধ।
চিঠির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে অন্তরের অনুভূতি
১৯২৬ থেকে ১৯২৮ সালের মধ্যে লেখা এই চিঠিগুলোতে ড. শহীদুল্লাহ তার স্ত্রীকে "জানের পেয়ারী" ও "প্রিয়তমে" বলে সম্বোধন করেছেন। তিনি লিখেছেন, "রাতদিন তোমার মুখখানি মনে করি। সকল সময় তোমাদের জন্য আল্লার দরগায় দো’আ করিতেছি।" চিঠিতে তিনি মরগুবা খাতুনের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করেছেন এবং তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন।
পরিবারের সদস্যদের প্রতি স্নেহ ও মমতা
চিঠিগুলোতে ড. শহীদুল্লাহ তার সন্তান ও অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর স্নেহের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, "মজ্ঞু, সফী, গোলে, ওলী, যকী—সকলকে আমার বদলে চুমা দিও।" এছাড়াও তিনি তার নাতি-নাতনিদের কথা স্মরণ করেছেন এবং তাদের জন্য দোয়া চেয়েছেন।
বিদেশে থাকাকালীন সময়ের অভিজ্ঞতা
ড. শহীদুল্লাহ ফ্রান্স, জার্মানি ও ইংল্যান্ডে থাকাকালীন সময়ে এই চিঠিগুলো লিখেছেন। তিনি তার পড়াশোনা, গবেষণা ও থিসিস লেখার কাজের ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করেছেন। এক চিঠিতে তিনি লিখেছেন, "পড়াশুনা লইয়া ভারী ব্যস্ত। কাজ শেষ করিতে পারিলেই বাড়ী রওনা হই।" তিনি বাড়ি ফেরার দিন গুনতে থাকেন এবং স্ত্রীর সাথে দেখা হওয়ার অপেক্ষায় থাকেন।
শিল্পী মুর্তজা বশীরের আঁকা প্রতিকৃতি
এই চিঠিগুলোর সাথে শিল্পী মুর্তজা বশীরের আঁকা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও মরগুবা খাতুনের প্রতিকৃতিও যুক্ত হয়েছে। ১৯৬৭, ১৯৬৯ ও ১৯৮৮ সালে আঁকা এই প্রতিকৃতিগুলো তাদের ব্যক্তিত্ব ও সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে। এছাড়াও ১৯৬৬ সালে সাত পুত্রবধূর সাথে তাদের তোলা ছবি প্রকাশ পেয়েছে।
চিঠির ভাষা ও শৈলী
ড. শহীদুল্লাহর চিঠিগুলো সরল ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় লেখা। তিনি প্রচলিত বাংলা বানান ও শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা তার সময়ের ভাষারীতিকে প্রতিফলিত করে। চিঠিতে তিনি ধর্মীয় বিশ্বাস ও পারিবারিক মূল্যবোধের প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
এই চিঠিগুলো ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ব্যক্তিগত জীবনের একটি অনবদ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি তার সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ পরিচয়ের পাশাপাশি একজন স্নেহশীল স্বামী ও পিতার চিত্র তুলে ধরে। চিঠিগুলো প্রথম আলোর ঈদসংখ্যা ২০২৩ থেকে উদ্ধৃত হয়েছে এবং আনিসুর রহমানের ভূমিকা ও গ্রন্থনায় প্রকাশ পেয়েছে।



