বার্জারের বইমেলা আয়োজনে রঙের নামে বাংলা ভাষার সমৃদ্ধি
বার্জারের বইমেলায় বাংলা রঙের নাম সংরক্ষণ উদ্যোগ

বার্জারের বইমেলা আয়োজনে রঙের নামে বাংলা ভাষার সমৃদ্ধি

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে অমর একুশে বইমেলা ছিল বাংলা সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল মিলনস্থল। এ বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই মেলায় প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির 'বই আকৃতি'র স্টল দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে, বিশেষ করে শিশুদের জন্য আর্ট জোনে সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করেছে।

বাংলা রঙের নাম সংরক্ষণের বিশেষ ক্যাম্পেইন

রোববার (১৫ মার্চ) বার্জারের স্টলে অনুষ্ঠিত হয় 'ইনি মিনি রং চিনি' বই ও 'বাংলার রঙে বাংলা নামে ১৪৩২' শীর্ষক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। বই ও কার্যক্রমের মোড়ক উন্মোচন করেন বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুপালী চৌধুরী, চিফ অপারেটিং অফিসার ও ডিরেক্টর মো. মহসিন হাবিব চৌধুরী, চিফ মার্কেটিং অফিসার সালাহউদ্দিন আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বার্জারের এই ক্যাম্পেইন কেবল রঙের নাম খুঁজে পাওয়া নয়, বরং এটি বাঙালির ভাষাগত পরিচয়ের প্রতি এক পরম শ্রদ্ধা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার। উদ্যোগটির উদ্বোধন শেষে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুপালী চৌধুরী বলেন, 'বাংলা ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আবেগের গভীরতম প্রকাশ। ১৯৫২ সালে রাজপথে রক্ত দিয়ে অর্জিত এই ভাষার সমৃদ্ধি ধরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে বার্জার।'

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সময়ের আবর্তে ও বিশ্বায়নের প্রভাবে শব্দভান্ডার থেকে 'ময়ূরকণ্ঠী', 'কাঞ্চন', 'লীলাবতী' বা 'নীলুয়া'র মতো ঐতিহ্যবাহী রঙের নামগুলো আজ হারিয়ে যাচ্ছে। এই শূন্যতা পূরণ করতেই তারা বিশেষ এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করেছে।

শিশুদের জন্য ছড়ার বই ও আর্ট জোন

বার্জার প্রকাশ করেছে ভিন্নধর্মী ছড়ার বই 'ইনি মিনি রং চিনি', যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাংলা রঙের নামকে পরিচিত ও জীবন্ত রাখতে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বইটিতে দেশের স্বনামধন্য ছড়াকাররা ছন্দ ও ছড়ার মাধ্যমে বাংলা রঙের জগৎকে পরিচিত করিয়েছেন, যেখানে প্রথম সিজনের নির্বাচিত ৪৮টি শেডের বাংলা নামও গুরুত্ব পেয়েছে।

স্টলের নির্দিষ্ট কোনায় শিশুদের জন্য রাখা হয়েছিল 'আর্ট জোন', যেখানে বার্জারের 'আর্টিসটা' রং দিয়ে বিভিন্ন ছবিতে রঙের খেয়াল মেতেছিল শিশুরা। এ সময় তাদের অভিভাবকদের সন্তানের সৃজনশীলতা মুঠোফোনে স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করতে দেখা যায়। স্টলের কাছাকাছি ফটোবুথ ছিল শিশুদের উপস্থিতিতে মুখর।

ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য ও অংশগ্রহণ

বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের চিফ অপারেটিং অফিসার ও ডিরেক্টর মো. মহসিন হাবিব চৌধুরী বলেন, 'প্রথম সিজনে বাংলাদেশের ৮টি বিভাগ থেকে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের জমা দেওয়া ২০ হাজারের বেশি নাম থেকে নির্বাচিত ৪৮টি শেডের বাংলা নাম নিয়ে তৈরি হয়েছে বার্জারের প্রথম বাংলা ই-শেড কার্ড। সেই সাফল্যের পর এ বছর লক্ষ্য ১ হাজার ৪৩২টি শেডের অর্থবহ বাংলা নাম নির্ধারণ করা।'

তিনি আরও বলেন, সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে যেন তারা প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন রঙের নাম প্রস্তাব করেন। পাঠানো নামগুলো থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক নাম বাছাই করবেন জুরিবোর্ডের অভিজ্ঞ সদস্যরা। 'বাংলার রঙে বাংলা নামে ১৪৩২' শীর্ষক কার্যক্রমটি চলবে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত, এবং আগ্রহী ব্যক্তিরা রঙের বাংলা নামগুলো অনলাইনে জমা দিতে পারবেন। বিচারকদের যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিত বিজয়ীরা পাবেন আকর্ষণীয় পুরস্কার।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, বিলুপ্তির পথে রয়েছে অসংখ্য শব্দ ও অভিব্যক্তি, এবং সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ২০০টির বেশি বহুল ব্যবহৃত রঙের শেডের মধ্যে ৬০ শতাংশেরই কোনো সরাসরি বাংলা সমার্থক নেই। এই সীমাবদ্ধতা দূর করে বাংলা রঙের শব্দভান্ডারকে সমৃদ্ধ করাই এই ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য বলে জানান আয়োজকরা।