বইমেলায় বৃষ্টিতে বিপাকে প্রকাশক, ভেজা বই রোদে শুকাতে ব্যস্ত বিক্রেতারা
বইমেলায় বৃষ্টিতে বিপাকে প্রকাশক, ভেজা বই শুকাতে ব্যস্ত

বইমেলায় হঠাৎ বৃষ্টিতে বিপাকে প্রকাশক ও বিক্রেতারা

অমর একুশে বইমেলা শেষের দিকে এলেও গতকাল শুক্রবার হঠাৎ বৃষ্টিতে বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন প্রকাশক ও বিক্রেতারা। রাত ৮টার দিকে বইমেলায় শুরু হওয়া ঝড়বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে স্টলগুলোর ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে, যার ফলে শত শত বই ভিজে যায়। আজ শনিবার সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, ভিজে যাওয়া বইগুলো রোদে শুকাতে দিচ্ছেন বিক্রেতারা।

ছোট স্টলগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

বৃষ্টিতে বইমেলার বড় স্টল তেমন ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও ছোট স্টলগুলো বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। গুফু পাবলিকেশনের বিক্রয়কর্মী মো. সুলতান জানান, তাদের স্টলে থাকা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বই ভিজে গেছে। তিনি বলেন, "এমনিতেই এ বছর বিক্রি কম, এর ওপর বৃষ্টিতে ক্ষতির পরিমাণটা বেড়ে গেছে।" শিশুদের জন্য গবেষণাধর্মী বই, গল্প ও শেখার সামগ্রী ভিজে যাওয়ায় মান নষ্ট হয়ে গেছে, যা বিক্রি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

বিভিন্ন প্রকাশনার বই ভিজে যাওয়া

বিবলিওফাইলের বিক্রয়কর্মী জুবায়ের আহমেদ বলেন, তাদের স্টলে থাকা ১৫০টির বেশি থ্রিলার বই ভিজেছে। তিনি উল্লেখ করেন, "এগুলো সহজে বিক্রি হবে না, এবং অনেক লোকসানে বিক্রি করতে হতে পারে।" মলাট সুন্দর না থাকলে ক্রেতারা বই কিনতে চায় না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, আদী প্রকাশনের সহকারী ব্যবস্থাপক সুজন আহমেদ জানান, দুই শোর বেশি বই ভিজে গেছে, যা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা কম। বাতাসের মুখে থাকা স্টলগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্টল মেরামত ও আহত লেখক

আদী প্রকাশনের স্টলে গিয়ে দেখা যায়, বিক্রয়কর্মীরা ভেঙে যাওয়া স্টল মেরামত করছিলেন। গতকাল রাতের বৃষ্টিতে সিলিং ভেঙে পড়ে স্টলে থাকা লেখক বণিক শাহরিয়ার আহত হয়েছেন। ভিজে যাওয়া বইগুলো বাংলাবাজারে মূল কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিশুপ্রহরে প্রভাব

আজ ছিল বইমেলার ষষ্ঠ ও শেষ শিশুপ্রহর, যেখানে শিশুরা বই কিনতে আসে। তবে বৃষ্টির পর মেলা প্রাঙ্গণে বিদ্যুৎ ছিল না, এবং পাপেট শো দুপুর সাড়ে ১২টার পর শুরু হয়। রাজধানীর বাড্ডা থেকে আসা নুসরাত নিহা তার বাবার সঙ্গে মেলায় এসে কৌতুক ও গল্পের বই কিনতে চায়। তার বাবা মোজাম্মেল হক বলেন, "আগামীকাল মেলা শেষ হয়ে যাবে, তাই শেষবারের মতো নিয়ে এসেছি।"

বইমেলা আগামীকাল রোববার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এই বৃষ্টির ঘটনা প্রকাশক ও বিক্রেতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তারা এখনো সংগ্রাম করছেন।