অমর একুশে বইমেলার শেষ শুক্রবারে ঝড়-বৃষ্টি সত্ত্বেও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো
অমর একুশে বইমেলার শেষ শুক্রবারে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আগের সেই চিরচেনা ভিড় পুরোপুরি না ফিরলেও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দিনটি ছিল মেলার শেষ শুক্রবার এবং পঞ্চম ‘শিশুপ্রহর’। সকাল থেকেই অভিভাবকদের হাত ধরে মেলায় আসতে শুরু করে শিশুরা। বায়োস্কোপ, প্রিয় চরিত্রের গল্প আর নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মুখরিত ছিল মেলা প্রাঙ্গণ।
কালবৈশাখী ঝড়ে বিপাকে পড়েন দর্শনার্থীরা
মেলা যখন জমে উঠছিল, ঠিক সন্ধ্যার দিকেই হঠাৎ আকাশ কালো করে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। ঝোড়ো হাওয়ার সাথে মুষলধারে বৃষ্টি নামলে বিপাকে পড়েন মেলায় আসা দর্শনার্থীরা। অনেক প্রকাশককে দ্রুত বই পলিথিনে মুড়িয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে দেখা যায়। বৃষ্টির কারণে মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের বেশ কিছু নিচু এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
ঝড়-বৃষ্টির বাধা সত্ত্বেও পাঠকদের উৎসাহ
তবে ঝড়-বৃষ্টির এই বাধা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা সারতে অনেক পাঠককে বৃষ্টি মাথায় নিয়েই মেলায় অবস্থান করতে দেখা গেছে। মেলায় ঘুরে দেখা যায়, পাঠকেরা বিভিন্ন স্টলে গিয়ে নতুন প্রকাশিত বই দেখছেন ও কিনছেন। কেউ কেউ আবার খুঁজছেন ছাড়ের সুযোগ। বিশেষ করে উপন্যাস, গল্পসংকলন ও সমসাময়িক প্রবন্ধের বইয়ের সামনে পাঠকদের ভিড় বেশি ছিল।
জুমার নামাজ ও ইফতারের প্রভাব
জুমার নামাজের সময় মেলায় কিছুটা স্থবিরতা বিরাজ করলেও বিকাল ৩টার পর থেকে দর্শনার্থী ও পাঠকদের সমাগম দ্রুত বাড়তে থাকে। ইফতারের সময় ভিড় কিছুটা কমলেও মাগরিবের পর আবারও মেলা প্রাঙ্গণ লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
প্রকাশকদের প্রতিক্রিয়া
রাত্রি প্রকাশনীর প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন বলেন, “এবারের মেলাটা অনেকটাই আলাদা। শুরু থেকেই বেচাকেনা ও দর্শনার্থী দুটোই তুলনামূলক কম ছিল। তবে যারা আসছেন, তারা মূলত বই কিনতেই আসছেন।” তিনি আরও বলেন, শেষ শুক্রবার ঘিরে প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ না হলেও দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক এবং বিক্রিও ভালো হয়েছে। তার ভাষায়, “এবারের বইমেলা মূলত ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা ছিল, সেই লক্ষ্য অনেকটাই পূরণ হয়েছে।”
উল্লেখ্য, আগামী রবিবার (১৫ মার্চ) শেষ হবে এবারের বইমেলা। বিক্রি খুব বেশি না বাড়লেও প্রকাশকদের মতে, দর্শনার্থীর উপস্থিতির দিক থেকে দিনটি এবারের মেলার অন্যতম বেশি দিন।
