বইমেলার স্টল ফি ফেরত পাবেন প্রকাশকরা, ঈদের পরই শুরু হবে প্রক্রিয়া
বইমেলার স্টল ফি ফেরত ঈদের পর, প্রকাশকদের আবেদন জমা

বইমেলার স্টল ফি ফেরত পেতে ঈদের পরই শুরু হবে প্রক্রিয়া

বাংলা একাডেমি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, অমর একুশে বইমেলার স্টল ফি মওকুফের সিদ্ধান্তের আগে যেসব প্রকাশক ফি পরিশোধ করেছেন, তারা তাদের টাকা ফেরত পাবেন। তবে এই ফেরত প্রদানের কাজ শুরু হবে ঈদুল ফিতরের পরবর্তী সময়ে। একাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের আগে পর্যাপ্ত কর্মদিবস না থাকায় ফেরত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

প্রকাশকদের আবেদন জমা দিতে হবে

বাংলা একাডেমি প্রকাশকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি ঘোষণা করেছে। যারা ইতিমধ্যে স্টল ফি পরিশোধ করেছেন, তাদেরকে একাডেমির জনসংযোগ বিভাগে একটি লিখিত আবেদন জমা দিতে হবে। এই আবেদনের সাথে ফি পরিশোধের প্রমাণপত্রের ফটোকপি সংযুক্ত করতে হবে। শুধুমাত্র সঠিক নথিপত্র সহ আবেদন জমা দিলেই ফেরত প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

কর্মদিবসের অভাবে ঈদের আগে ফেরত সম্ভব হয়নি

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজাম ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, বইমেলা শেষ হওয়ার পর যদি তিন থেকে চারটি কর্মদিবস পাওয়া যেত, তাহলে ঈদের আগেই ফেরত দেওয়া সম্ভব হতো। তিনি বলেন, "১৫ মার্চের পরে খুব কম কর্মদিবস অবশিষ্ট আছে। প্রকাশকরা ঈদের পর তাদের টাকা ফেরত পাবেন।" এই বক্তব্য প্রকাশকদের মধ্যে চলমান অনিশ্চয়তা কিছুটা দূর করেছে।

প্রকাশকদের প্রতিক্রিয়া ও আশাবাদ

চন্দ্রবিন্দু প্রকাশনীর প্রকাশক মঈন ফারুক সরকারের পদ্ধতি অনুসরণ করার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমরা শুনেছি যে আবেদন জমা দিলে ফেরত দেওয়া হবে। টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু সঠিক সময় বলতে পারছি না। আশা করি ঈদের পরই পাব।" অন্যদিকে, মৌলা ব্রাদার্সের ম্যানেজার শাহিন সিকদার ফেরতের সময়সীমা ও প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করেছেন।

বইমেলার সময়সূচি ও প্রকাশনা পরিসংখ্যান

এবারের অমর একুশে বইমেলা স্বাভাবিক সময়ে শুরু হয়নি। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের কারণে বইমেলা ১ ফেব্রুয়ারির বদলে ২৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে এবং ঈদের আগে রবিবার শেষ হবে। বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের বইমেলায় ৩,২৯৯টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু এবারের মেলায় মাত্র ১,৩৩৭টি নতুন শিরোনাম জমা পড়েছে—যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

ফেরত প্রক্রিয়ার গুরুত্ব ও প্রভাব

স্টল ফি ফেরত প্রদানের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশকদের জন্য একটি ইতিবাচক সংবাদ। এটি প্রকাশনা শিল্পের আর্থিক চাপ কিছুটা লাঘব করবে। বাংলা একাডেমির এই পদক্ষেপ স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি প্রকাশকদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করবে। প্রকাশকরা এখন ঈদের পর দ্রুত ফেরত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা করছেন।