অমর একুশে বইমেলায় শিশুপ্রহরে বাঘ পুতুলের নাচে মাতোয়ারা শিশুরা
বইমেলায় শিশুপ্রহরে বাঘ পুতুলের নাচে মাতোয়ারা শিশুরা

অমর একুশে বইমেলায় শিশুপ্রহরের রঙিন উচ্ছ্বাস

আজ শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অমর একুশে বইমেলার প্রথম শিশুপ্রহর অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোদের তেজ ও রোজার আমেজ সত্ত্বেও ছোটদের উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়েনি। রঙিন বই, ছবি আঁকার খাতা, ছড়ার সংগ্রহ এবং পুতুলনাচের মাধ্যমে প্রাণ ফিরে পেয়েছে এই মেলা। শিশুদের জন্য বিশেষ এই প্রহরে পাপেট শো ছিল মূল আকর্ষণ, যেখানে বাঘ পুতুলের নাচে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে তারা।

শিশুদের বায়না ও বইয়ের মোহ

সকাল থেকেই বইমেলায় শিশুদের ভিড় লক্ষণীয় ছিল। ছয় বছরের অরিত্র তার দাদা অমল হাওলাদারের কাছে বই কিনে দেওয়ার জন্য জেদ ধরছিল। অরিত্র এবারই প্রথম স্কুলে ভর্তি হয়েছে এবং প্রথমবার বইমেলায় এসে তার বায়নার শেষ নেই। দাদা মৃদু হেসে বলেন, ‘আমার নাতি এবারই স্কুলে ভর্তি হয়েছে। প্রথমবার বইমেলায় এনেছি। বায়নার শেষ নেই।’ এই দৃশ্য বইমেলার শিশুপ্রহরের প্রাণবন্ত পরিবেশেরই প্রতিফলন।

বইমেলার সময়সূচি ও শিশুপ্রহরের ব্যবস্থা

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন করেছেন। পবিত্র রমজান মাসের কারণে এ বছর মেলার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতিদিন বেলা দুইটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত মেলা চলবে। শুক্র, শনিবারসহ ছুটির দিনগুলোতে শিশুপ্রহর থাকবে, যেখানে মেলার দ্বার খুলবে বেলা ১১টায় এবং শিশুপ্রহর চলবে বেলা ১টা পর্যন্ত। এরপর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে সবার জন্য। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গ্রন্থানুরাগীরা মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন।

পাপেট শোতে বাঘ পুতুলের নাচ

শিশুপ্রহরের মূল আকর্ষণ ছিল পাপেট শো। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জাহরিয়া মায়ের হাত ধরে স্টল ঘুরছিল, কিন্তু পুতুলনাচের মঞ্চের সামনে এসে থেমে যায়। মুহূর্তেই শিশুরা দৌড়ে গিয়ে পাটি বিছানো মেঝেতে বসে পড়ে। মঞ্চে হাজির হয় দুই পুতুল বন্ধু অপু ও দিপু, যারা গল্পের ফাঁকে শিক্ষণীয় বার্তা দেয়। তাদের বিদায়ের পর বেজে ওঠে ‘বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে…’ গানের সুর। গানের তালে তালে লেজ নাড়তে নাড়তে মঞ্চে আসে বিশাল এক বাঘ পুতুল। শিশুরা আনন্দে চিৎকার করে ওঠে এবং নাচতে নাচতে বাঘ নেমে আসে তাদের মাঝে। বাঘকে হাত বাড়িয়ে ছুঁতে চায় তারা, হাসি ও হাততালিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।

শিশুদের প্রতিক্রিয়া ও অভিভাবকদের অনুভূতি

বাবার কোলে বসা ছোট্ট তাসনিম পাপেট শো দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে হাততালি দিচ্ছিল। অনুষ্ঠান শেষে সে বাবার কাছে সরল প্রশ্ন করে, ‘বাঘটা আবার আসবে?’ বাবা হেসে উত্তর দেন, ‘আবার আসবে, আমরা আবার দেখব।’ শিশুপ্রহর ঘিরে মেলার ভেতরে তৈরি হয়েছিল আলাদা এক আবহ, যেখানে মূল মঞ্চের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে ছোট ছোট স্টলে রঙিন বই, আঁকার খাতা, ছড়া ও গল্পের সমাহার ছিল।

পাপেট শোর উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সেকশনকাকতাড়ুয়া পাপেট শোর প্রতিষ্ঠাতা আসাদুজ্জামান আশিক বলেন, ‘শিশুরা গল্প খুব সহজে গ্রহণ করে। আমরা পাপেট শোর মাধ্যমে তাদের আনন্দ দিই। সেই আনন্দের ভেতরেই বার্তা রাখি। এই মাধ্যম দিয়ে সমাজের কুসংস্কার দূর করার চেষ্টা করি।’ তিনি আরও জানান, প্রতিটি শিশুপ্রহরে ভিন্ন গল্প নিয়ে হাজির হবেন তারা, যেখানে গল্পের ফাঁকে থাকবে গান, ছড়া ও অংশগ্রহণমূলক প্রশ্নোত্তর।

অমর একুশে বইমেলার এই শিশুপ্রহর শুধু বিনোদন নয়, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশেরও একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। শিশুরা বইয়ের পাশাপাশি সৃজনশীল কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তাদের শৈশবকে রঙিন করে তুলছে।