পুরোনো লাইব্রেরির রহস্যময় অভিযান: ভূত নয়, হাসির খোরাক
কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নারমিন ও তার বন্ধুদের এক দুঃসাহসিক অভিযানের গল্প। একদিন বিকেলে তারা মিলে একটি পুরোনো লাইব্রেরি ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। অনেক দিন বন্ধ থাকায় ভবনটির অবস্থা ছিল বেশ নাজুক। জানালাগুলো ভাঙা ছিল আর দেয়ালে কালো দাগের ছাপ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। ভেতরে ঢুকেই একটি ভ্যাপসা গন্ধ তাদের নাকে লাগে, যা তাদের মনে সংশয়ের জন্ম দেয় যে এখানে আসাটা ঠিক হয়নি কিনা।
অপ্রত্যাশিত বিপদের মুখোমুখি
হঠাৎ করেই তাদের পেছনের দরজাটা শব্দ করে বন্ধ হয়ে যায় এবং চারদিক অন্ধকারে ঢেকে যায়। ভয়ে বন্ধু রামিসা নারমিনের হাত শক্ত করে ধরে ফেলে। ঠিক সেই মুহূর্তে ওপরতলা থেকে পা টেনে টেনে হাঁটার একটি ভয়ঙ্কর শব্দ শোনা যায়। মনে হচ্ছিল কেউ যেন ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসছে। বন্ধু জিসা কাঁপতে কাঁপতে বলে যে সে কাউকে দেখেছে। তাকিয়ে দেখে সিঁড়ির পাশে একটি অদ্ভুত দীর্ঘ ছায়া দাঁড়িয়ে আছে, যার মাথাটা একপাশে বেঁকে আছে। নুজুমি ভয়ে কেঁদে উঠে, কারণ ছায়াটির চোখের জায়গায় দুটো আলো জ্বলছিল।
রহস্যময় পরিবেশ ও ভয়ের মুহূর্ত
হঠাৎ করেই চারপাশ খুব ঠান্ডা হয়ে যায়। নারমিনের মনে হয়েছিল কানে কেউ ফিসফিস করে বলছে, ‘এখান থেকে কেউ ফিরতে পারে না।’ ভয়ে সে পেছনে তাকাতেও পারছিল না। ছায়াটা যখন একদম কাছে চলে আসে, তখন তার লম্বা কালো চুল নারমিনের গায়ে লাগে। ভয়ে সে চিৎকার করে ওঠে। ঠিক সেই মুহূর্তে আলো জ্বলে উঠে এবং সেই ছায়াটাও চিৎকার করে বলে, ‘ওরে বাবা, আমার পা!’
মজার সমাধান ও হাসির খোরাক
চমকে উঠে তারা সবাই বুঝতে পারে যে এটি কোনো ভূত নয়, বরং নুজুমির ছোট বোন। সে সাদা চাদর পরে তাদের ভয় দেখাতে এসেছিল, কিন্তু নিজেই ভয় পেয়ে গিয়েছে। কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর তারা সবাই মিলে হেসে উঠে। এই ঘটনাটি তাদের জন্য একটি মজার অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায়। কুমিল্লার এই শিক্ষার্থীরা তাদের দুঃসাহসিকতা ও শেষ মুহূর্তের হাসির মাধ্যমে একটি স্মরণীয় দিন কাটায়।
