মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শিল্প-সংস্কৃতির শক্তিকে কাজে লাগানোর তাগিদ
সমাজে মাদকের ক্রমবর্ধমান প্রকোপ থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেছেন, শুধু পাঠ্যবই নয়, জীবনধর্মী ও শিক্ষামূলক বই পড়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে যাতে তরুণরা সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করতে পারে।
গ্রন্থাগারিকদের সমাজের মিশনারি আখ্যা
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র মিলনায়তনে ‘বেসরকারি গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক/গ্রন্থাগার প্রতিনিধিদের জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়ন’ বিষয়ক চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
নিতাই রায় চৌধুরী গ্রন্থাগারিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা যারা গ্রন্থাগারিক, আপনারা হলেন সমাজের মিশনারি; যারা মানুষের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়ান। আমি অনুরোধ করব, গ্রন্থাগারগুলো যেন বদ্ধ ঘরে না হয়ে স্বচ্ছ কাঁচের দেয়ালের হয়, যাতে বাইরে থেকে বই পড়ার দৃশ্য দেখে মানুষ অনুপ্রাণিত হয়।”
জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে গ্রন্থাগারের ভূমিকা
মন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সংস্কৃতি জগতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। বাংলাদেশ বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির দেশ এবং এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্য আমাদের অহংকার। আমরা একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে চাই, যেখানে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অনস্বীকার্য।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিশুদের জন্য আলাদা কর্নারের সুপারিশ
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান কানিজ মাওলা। তিনি বলেন, “প্রতিটি লাইব্রেরিতে শিশুদের জন্য আলাদা কর্নার থাকা উচিত। আনন্দের মাধ্যমে শিশুরা যাতে বইয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের মনোজগতের পরিবর্তন ও মানসিকতা তৈরি করা এখন সবচেয়ে জরুরি।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক এ এইচ এম সাখাওয়াত উল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের গ্রন্থাগারিক ও উপ-পরিচালক মো. ফরিদ উদ্দিন সরকার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইনামুল হক।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ ও অনুদান বরাদ্দের তথ্য
উল্লেখ্য, এবারের ৬৪তম ব্যাচের প্রশিক্ষণে সারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ৩২ জন গ্রন্থাগারিক অংশগ্রহণ করছেন। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের প্রায় ৮০০টি বেসরকারি গ্রন্থাগারে ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেছে, যার অর্ধেক ছিল নগদ অর্থ এবং বাকি অর্ধেক বই।
এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রন্থাগারগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে জ্ঞান ও সংস্কৃতি চর্চার ‘হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও তরুণ প্রজন্মকে মাদকের কুপ্রভাব থেকে দূরে রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।



