পাবনা মানসিক হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত ঠাকুর শ্রীশ্রী অনুকূলচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত ‘বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র’ ও ‘মাতৃমন্দির’ ভবন দুটির নিলাম ও অপসারণ কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। সৎসঙ্গ বাংলাদেশের দাবির পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় গণপূর্ত বিভাগ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সৎসঙ্গের দাবি ও প্রশাসনের সাড়া
মঙ্গলবার সকালে সৎসঙ্গ বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা পাবনার জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভবন দুটি সংরক্ষণের দাবি জানান। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শন শেষে নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করে।
সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সহ-সাধারণ সম্পাদক সুব্রত আদিত্য বলেন, ‘মানবধর্মের প্রচারক ঠাকুর শ্রীশ্রী অনুকূলচন্দ্র ১৮৮৮ সালে পাবনার হিমায়েতপুরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯২৯ সালে সেখানে সৎসঙ্গ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। মানুষের কল্যাণ ও বিজ্ঞানমনস্ক জীবনচর্চার উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এর মধ্যে মায়ের স্মৃতিরক্ষার্থে নির্মিত “মাতৃমন্দির” এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচর্চার জন্য প্রতিষ্ঠিত “বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র” অন্যতম।’
তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি মানসিক হাসপাতালের সম্প্রসারণ ও আধুনিক ইনস্টিটিউট নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক ও ভগ্নপ্রায় এই স্থাপনাগুলো অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দেশ বিদেশে থাকা অনুকূলচন্দ্রের অনুসারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।’ ভবন দুটি ভেঙে ফেলার পরিবর্তে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ ও সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক নিখিল মজুমদার বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের অসংখ্য ভক্ত রয়েছেন। স্মৃতিবিজড়িত এই স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ করে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হলে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি দেশের পর্যটন ও অর্থনীতিও উপকৃত হতে পারে।’
পরিদর্শন ও সরকারি সিদ্ধান্ত
সৎসঙ্গ বাংলাদেশের দাবির পর মঙ্গলবার সকালে মানসিক হাসপাতাল এলাকায় অবস্থিত ভবন দুটি পরিদর্শন করেন পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক ডা. শাফকাত ওয়াহিদ, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় সৎসঙ্গ বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবির বলেন, ‘পাবনা মানসিক হাসপাতালে বিশ্বমানের আধুনিক ইনস্টিটিউট নির্মাণ প্রকল্পের জন্য পুরনো ও পরিত্যক্ত ভবন অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মোট ১৩টি পরিত্যক্ত ভবনের নিলামের জন্য বুধবার থেকে দরপত্র আহ্বানের কথা ছিল। এর মধ্যে সৎসঙ্গীদের দাবিকৃত দুটি ভবনও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে আপাতত এই দুটি ভবনের নিলাম স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সৎসঙ্গের কৃতজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করায় জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ধৃতব্রত আদিত্য। তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে নিলাম স্থগিত করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে ভবনগুলোর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাই।’
পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি ধর্মীয় ও স্পর্শকাতর হওয়ায় নিলাম কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। সৎসঙ্গ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’



