বাগেরহাটের চিতলমারীতে মাতৃপূজা: সন্তানেরা মায়ের পা ধুয়ে জানাল অকৃত্রিম শ্রদ্ধা
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় মায়ের প্রতি সন্তানের অকৃত্রিম মমতা ও ভালোবাসা প্রকাশের জন্য একটি ব্যতিক্রমী মাতৃপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে প্রায় অর্ধ-শতাধিক সন্তান তাদের মায়েদের পা ধুয়ে পরম শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, যা এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
পূজার বিস্তারিত বিবরণ
রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চিতলমারী উপজেলার পরানপুর গ্রামে এই মাতৃপূজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রয়াত যোগেন্দ্র নাথ মণ্ডলের আঙিনায় গ্রামবাসীর সহযোগিতায় আয়োজিত এই পূজায় বিভিন্ন বয়সের সন্তানরা অংশগ্রহণ করেন। তারা নিজ হাতে মায়েদের পা ধুয়ে, ধুপ-দীপ জ্বালিয়ে, ফুল ও প্রসাদ সাজিয়ে এবং মায়েদের গলায় মালা পরিয়ে দেবী রূপে তাদের পূজা করেন। পূজা শেষে সন্তানরা মায়েদের মুখে প্রসাদ তুলে দেন এবং মায়েরা সন্তানদের মাথায় হাত রেখে প্রাণ ভরে আশীর্বাদ করেন।
আয়োজনের উদ্দেশ্য ও অংশগ্রহণকারী
এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের উদ্যোক্তা ও পৃষ্ঠপোষক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মনমথ নাথ মণ্ডল জানান, ভালো মানুষ তৈরির জন্য মায়ের পূজার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের কচি মনে মায়ের প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে কোনো পিতা-মাতাকে বৃদ্ধ বয়সে অবহেলার শিকার হতে হবে না। মনমথ নাথ মণ্ডল আরও আশা প্রকাশ করেন যে, তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন, নিজ অর্থায়নে প্রতি বছর এই পূজার আয়োজন চালিয়ে যাবেন।
আয়োজনের সময় আয়োজক মনমথ নাথ মণ্ডল উপস্থিত সব মায়েদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেন। এই অনুষ্ঠানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বর্ষণ মণ্ডল, সহকারী অধ্যাপক সুব্রত মণ্ডল, সহকারী অধ্যাপক শ্যামল চন্দ্র মণ্ডল, সহকারী শিক্ষক পরেশ মজুমদার এবং সমাজসেবক পলাশ মণ্ডলসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়া ও গুরুত্ব
এই মাতৃপূজা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি সামাজিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক বন্ধনকে শক্তিশালী করার একটি অনন্য উদ্যোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই ধরনের আয়োজন সমাজে মাতৃ-পিতৃ ভক্তির চেতনা জাগ্রত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। চিতলমারীতে এই প্রথমবারের মতো এত বড় আকারে মাতৃপূজার আয়োজন করা হয়েছে, যা এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও সমর্থন পেয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, বাগেরহাটের চিতলমারীতে অনুষ্ঠিত এই মাতৃপূজা সন্তানের প্রতি মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং মায়ের প্রতি সন্তানের শ্রদ্ধার একটি জীবন্ত উদাহরণ হয়ে থাকবে। এটি ভবিষ্যত প্রজন্মকে পারিবারিক মূল্যবোধ ও সম্মানবোধ শিক্ষা দেওয়ার একটি কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
