প্রেমের টানে চীনা তরুণীর বাংলাদেশে আগমন, মৌলভীবাজারে বিয়ের আয়োজন
চীনা তরুণীর প্রেমে মৌলভীবাজারে বিয়ের আয়োজন

প্রেমের টানে চীনা তরুণীর বাংলাদেশে আগমন, মৌলভীবাজারে বিয়ের আয়োজন

প্রেমের টানে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক গ্রামে ছুটে এসেছেন ক্রিস হুই নামে এক চীনা তরুণী। তার প্রেমিক সুকান্ত সেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে উপলক্ষে পুরো বাড়ি সাজানো হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

হেলিকপ্টারে করে কনেকে নিয়ে আসা

বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামে হেলিকপ্টারে করে ক্রিস হুইকে নিয়ে আসেন প্রেমিক সুকান্ত সেন। এই দৃশ্য গ্রামবাসীর জন্য একটি অভিনব অভিজ্ঞতা ছিল, যারা বিদেশি তরুণীর সঙ্গে প্রতিবেশী ছেলের বিয়ের ঘটনায় উৎসুক হয়ে উঠেছেন।

প্রেমের গল্পের শুরু চীনে

জানা যায়, ২০১৮ সালে সুকান্ত চীনে পাড়ি জমান এবং সেখানে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর ক্রিস হুইয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে তারা একসঙ্গে ব্যবসা শুরু করেন এবং ২০২৫ সালে সেখানে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন। সুকান্ত টিকরপাড়ার সেন বাড়ির প্রয়াত স্বপন কুমার সেন ও শিল্পী রানি সেনের ছেলে, আর কনে চীনের সাংহাইয়ের বাসিন্দা ক্রিস হুই।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও পরিকল্পনা

বাংলাদেশে বিয়ের অনুষ্ঠানে ক্রিসের সঙ্গে তার মা-বাবা ও চাচা উপস্থিত রয়েছেন। আগামী ২১, ২২ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি বর সুকান্তের গ্রামের বাড়িতে তাদের বিয়ের আয়োজন রয়েছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কনে ও বরের অনুভূতি

কনে ক্রিস হুই বলেন, ‘আমার জন্য বিশেষ মুহূর্ত। আমি বাংলাদেশে এসেছি আমার স্বামী সুকান্ত সেনের সঙ্গে। আমাদের লাভ স্টোরি অন্যদিন শোনাবো। এখানে এসে খুবই খুশি আমি।’

বর সুকান্ত সেন বলেন, ‘২০১৮ সালে আমি চীনে যাই এবং সেখানে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করি। পরে সেখানে চাকরিতে যোগ দিই। ৩-৪ বছর পর ক্রিসের সঙ্গে পরিচিত হই এবং একজনের প্রতি আরেকজনের ভালোবাসা তৈরি হয়। ২০২৩ সালে আমরা একসঙ্গে ব্যবসা শুরু করি, এখন চীনে আমাদের একটি কোম্পানি আছে। ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সেখানে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করি আমরা। আমার পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন কিছু করার, এ জন্য ঢাকা থেকে সরাসরি হেলিকপ্টারে বাড়িতে এসেছি।’

এই আন্তর্জাতিক প্রেমের গল্পটি মৌলভীবাজারের গ্রামীণ পরিবেশে একটি অনন্য মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও মানবিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।