বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে পর্যটন সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এবং দুই দেশের পর্যটন অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি বিশেষ মিডিয়া নেটওয়ার্কিং সেশন। ‘শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম – মিডিয়া নেটওয়ার্কিং সেশন’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানটি রোববার (৫ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর হোটেল লে মেরিডিয়ান ঢাকার ‘কুয়াকাটা’ হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম প্রমোশন ব্যুরো (এসএলটিপিবি) এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যা দুই দেশের পর্যটন খাতের মধ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি ও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাই কমিশনার এইচ ই ধর্মপাল বীরক্কোডি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম প্রমোশন ব্যুরোর চেয়ারম্যান মিস্টার বুদ্ধিকা হেওয়াওয়াসাম এবং ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টিওএবি) সভাপতি মিস্টার মোহাম্মদ রাফুজ্জামান। হাই কমিশনার এইচ ই ধর্মপাল বীরক্কোডি তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে পর্যটন খাতের উন্নয়ন ও সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য বিশাল সম্ভাবনা বিদ্যমান। তিনি দৃঢ়ভাবে মত প্রকাশ করেন যে এই ধরনের আয়োজন দুই দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।
শ্রীলঙ্কার পর্যটন সম্ভাবনার বিশেষ উপস্থাপনা
অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কার পর্যটন আকর্ষণগুলোর ওপর একটি বিশেষ প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়েছে, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এই প্রেজেন্টেশনে শ্রীলঙ্কার বৈচিত্র্যময় গন্তব্য, বিলাসবহুল ভ্রমণ সুবিধা (লাগজারি ট্রাভেল), পরিবার-কেন্দ্রিক ভ্রমণ প্যাকেজ এবং দুই দেশের মধ্যে উন্নত বিমান যোগাযোগ ও আবাসন সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম প্রমোশন ব্যুরোর চেয়ারম্যান মিস্টার বুদ্ধিকা হেওয়াওয়াসাম জানিয়েছেন যে শ্রীলঙ্কা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অন্যতম সেরা নিরাপদ ও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে স্বীকৃত। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য শ্রীলঙ্কায় এখন আরও সাশ্রয়ী প্যাকেজ ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে, যা দুই দেশের মধ্যে পর্যটন বাণিজ্যকে গতিশীল করবে।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ
টিওএবি সভাপতি মিস্টার মোহাম্মদ রাফুজ্জামান দুই দেশের পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে এই ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, এই নেটওয়ার্কিং সেশনটি কেবলমাত্র আলোচনার মাধ্যমই নয়, বরং বাস্তবসম্মত সহযোগিতার পথও প্রশস্ত করছে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে শ্রীলঙ্কার পর্যটন সম্ভাবনা, এয়ারলাইনস কানেক্টিভিটি এবং পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
আগামী দিনের পরিকল্পনা ও নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আগামীকাল ৬ এপ্রিল একই হোটেলে (গ্র্যান্ড বলরুম, লে মেরিডিয়ান) পর্যটন ব্যবসায়ীদের জন্য একটি এক্সক্লুসিভ 'বিটুবি রোডশো' এবং নেটওয়ার্কিং ইভেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, পর্যটন বিশেষজ্ঞ এবং শ্রীলঙ্কার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন, যা একটি নেটওয়ার্কিং ডিনারের (নৈশভোজ) মাধ্যমে সমাপ্ত হবে। এই ইভেন্টগুলো দুই দেশের মধ্যে পর্যটন খাতের সহযোগিতাকে আরও গভীর ও কার্যকর করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশাবাদী।



