খাগড়াছড়ির তারাবুনিয়া সড়ক: সবুজের মাঝে পর্যটনের নতুন ঠিকানা
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় বিস্তীর্ণ সবুজ ধানখেতের মাঝ দিয়ে চলে গেছে পিচঢালা তারাবুনিয়া সড়ক। এই সড়কটি এখন পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি এই এলাকায় দূরদূরান্ত থেকে প্রতিদিনই ভিড় করছেন পর্যটকেরা, যাঁরা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন।
প্রাকৃতিক ক্যানভাসের মতো দৃশ্য
সরেজমিনে দেখা যায়, তারাবুনিয়া সড়কের দুই পাশে সবুজ ধানখেত ও পাহাড়ের সারি মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। অদূরেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে স্থানীয় বসতি, যা প্রথমবার দেখলে জীবন্ত প্রাকৃতিক ক্যানভাসের মতো মনে হতে পারে। এই অনন্য দৃশ্যই এলাকাটিকে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলছে।
স্থানীয় নারীদের অর্থনৈতিক সুযোগ
এলাকাটির অন্যতম আকর্ষণ হলো স্থানীয় পাহাড়ি পিঠা। পর্যটন ঘিরে প্রতিদিনই সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন পিঠা, ভর্তা, পাজন ও তাজা ফল নিয়ে বসেন স্থানীয় পাহাড়ি নারীরা। পিঠা বিক্রেতা নমিতা চাকমা জানান, ‘ছুটির দিনে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত পিঠা বিক্রি করতে পারি। অন্য সময়ও প্রায় দেড় হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়।’ এই উদ্যোগ স্থানীয় নারীদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া
দীঘিনালা বাজারের বাসিন্দা জেসমিন চাকমা বলেন, ‘তারাবুনিয়া সড়কটি এখন দীঘিনালার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠেছে। আগে এখানে তেমন কেউ আসতেন না, এখন অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসেন।’ স্থানীয় কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞান বিকাশ চাকমা যোগ করেন, ‘সড়কের সৌন্দর্য বাড়াতে আমরা রাস্তার দুই পাশে গাছ লাগিয়েছি, যা পরিবেশকে সুন্দর করেছে এবং পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।’
পর্যটকদের অভিজ্ঞতা
সড়কে ঘুরতে আসা মো. কিবরিয়া ও অতল চাকমা বলেন, ‘দীঘিনালায় আগে ঘোরার মতো তেমন জায়গা ছিল না। কিন্তু এই সড়ক হওয়ার পর আমরা প্রায়ই বন্ধুদের নিয়ে এখানে আসি। চারদিকে সবুজ ধানখেত, আশপাশে তেমন বসতি নেই, সব মিলিয়ে জায়গাটি অসাধারণ।’ পর্যটকেরা এখানে মোটরসাইকেল চালানো, স্থানীয় খাবার উপভোগ করা এবং প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানোকে বিশেষভাবে উপভোগ করেন।
যাতায়াত ও থাকার ব্যবস্থা
ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে প্রথমে খাগড়াছড়ি যেতে হবে। সেখান থেকে নানিয়ারচর বা নানসি বাজার এলাকা থেকে পিকআপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাহিন্দ্রা বা মোটরসাইকেলে করে দীঘিনালা বাস টার্মিনালে যাওয়া যায়, ভাড়া বাহনভেদে ৭০ থেকে ১৫০ টাকা। এরপর অটোরিকশায় মাত্র ২০ টাকা ভাড়ায় তারাবুনিয়া সড়কে পৌঁছানো সম্ভব। থাকার জন্য দীঘিনালা বোয়ালখালী বাজারে হোটেল ইউনিটি ও হোটেল একতা ইন রয়েছে, যেখানে ৫০০ থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে কক্ষ পাওয়া যায়। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের রেস্টহাউসেও থাকার ব্যবস্থা আছে।



