বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য ভাসমান হোটেলের ব্যবস্থা চলে আসছে। এই ভাসমান হোটেলগুলো মূলত পুরোনো লঞ্চ, যা একসময় বিভিন্ন নৌরুটে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হতো। যাত্রীদের চাপ এবং কর্মীদের কর্মব্যস্ততায় সারা দিন মুখর থাকত এই লঞ্চগুলো।
লঞ্চ থেকে হোটেলে রূপান্তর
বছরের পর বছর ধরে চলাচলের পর, এই লঞ্চগুলো ধীরে ধীরে যাত্রী বহনের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। যাত্রী পরিবহনে আনফিট ঘোষিত হওয়ার পরই, এগুলোর নতুন পরিচয় গড়ে ওঠে ‘অস্থায়ী আবাসিক হোটেল’ হিসেবে। এই রূপান্তর নদীর তীরে একটি অনন্য আবাসন ব্যবস্থার সৃষ্টি করেছে।
ভাড়া ও সুবিধা
মিটফোর্ড হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত একটি ভাসমান হোটেলের ম্যানেজার জানান, সিঙ্গেল সিটের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা। অন্যদিকে, কেবিনের ভাড়া ১৫০ টাকা। এই ভাসমান হোটেলগুলো মূলত নিম্ন আয়ের মানুষ এবং অস্থায়ীভাবে থাকার প্রয়োজনীয়তা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য একটি সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে কাজ করছে।
এই হোটেলগুলোর অবস্থান বুড়িগঙ্গার তীরে হওয়ায়, পরিবেশগত দিক থেকে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও, স্থানীয়দের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসন সুবিধা। পুরোনো লঞ্চগুলোর এই নতুন ব্যবহার নগর জীবনের একটি অনন্য দিক তুলে ধরছে।



