ছুটির পর ঢাকাগামী লঞ্চে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, নিরাপত্তা ঝুঁকি
ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ঢাকা-চাঁদপুরসহ বিভিন্ন নৌপথে লঞ্চগুলোতে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। শনিবার সকাল থেকেই চাঁদপুর লঞ্চঘাটে যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে এবং বেলা ১১টার পর ভিড় আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এতে লঞ্চগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও টিকিট কারসাজির অভিযোগ
দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা ঢাকাগামী কয়েকটি লঞ্চে দুপুর ১২টার দিকে ছাদেও যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে, যা নিরাপত্তা বিধানে মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। যাত্রী বেশি হওয়ায় লঞ্চের কেবিন টিকিট নিয়ে কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া এবং টিকিট সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
যাত্রীদের উদ্বেগ ও অভিযোগ
হিজলা মুলাদী থেকে আসা আবদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের লঞ্চে যাত্রীসংখ্যা অনেক বেশি। কিন্তু কিছু করার নেই, কাজের প্রয়োজনে ঢাকায় যেতে হবে।’ আবে জমজম নামে লঞ্চের যাত্রী রহিমা বেগম বলেন, ‘লঞ্চে এত পরিমাণ যাত্রী উঠেছে যে, আমাদের ভয় হচ্ছে। বসার জায়গা নেই, তবুও ঘাটে লঞ্চ রেখে আরও যাত্রী তুলছে। এসব কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে। এসব বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা উচিত।’
একই লঞ্চের যাত্রী জাহিদ হাসান বলেন, ‘লঞ্চে উঠে কাউন্টারে গিয়ে দেখি কোনও টিকিট নেই। কিন্তু বাইরে ঠিকই ডাকছে কেবিন আছে বলে। আজ যাত্রীদের লঞ্চে এত ভিড় জানলে পড়ে যেতাম।’
বিআইডব্লিউটিএ-এর প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর উপপরিচালক বাবুলাল বৈদ্য বলেন, ‘চাঁদপুর থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন নৌপথে অর্ধশতাধিক লঞ্চ চলাচল করছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ কঠোর নজরদারি বজায় রাখছে এবং যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



