ধর্মীয় উৎসবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৭ কিলোমিটার জ্যাম, যাত্রীদের দুর্ভোগ
নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে মহা অষ্টমী স্নান উৎসবে হিন্দু ভক্তদের ব্যাপক সমাগমের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামগামী লেনে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই জ্যাম শুরু হয়ে লাঙ্গলবন্দ থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বলে মহাসড়ক পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
উৎসবের চাপে যানজটের কারণ
বন্দর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত লাঙ্গলবন্দে মহা অষ্টমী স্নান উৎসবে অংশ নিতে হাজার হাজার হিন্দু ভক্তের সমাবেশ ঘটেছে। এই দুই দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কারণে আশেপাশের রাস্তা ও মহাসড়কে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে। তিশা পরিবহনের চালক আবদুর রহিম মিয়া জানান, উৎসবের কারণে সকাল থেকেই যানজট চলছে, যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে আছে।
যাত্রীদের হতাশা ও বিকল্প পথ
যাত্রীরাও এই দীর্ঘ যানজটে ব্যাপক হতাশা প্রকাশ করেছেন। সাত্তার মিয়া বলেন, সকাল থেকেই যানবাহন প্রায় নড়ছেই না, ফলে অনেক যাত্রী গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে বা বিকল্প ফিডার রাস্তা দিয়ে তাদের যাত্রা অব্যাহত রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের অসুবিধা দিনের বেলায় আরও বেড়ে চলেছে।
পুলিশের তৎপরতা ও জ্যামের বিস্তার
শিমরাইল মহাসড়ক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন যে, যানজট সকাল থেকেই শুরু হয়ে মেঘনা টোল প্লাজা ছাড়িয়ে গজারিয়া এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। তিনি জানান, মহাসড়ক পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তবে ভক্তদের সমাগম বেড়ে যাওয়ায় জ্যাম সহজে কমানো যাচ্ছে না।
উৎসবের সময়সীমা ও প্রভাব
মহা অষ্টমী স্নান উৎসবটি ২৫ মার্চ শুরু হয়ে ২৬ মার্চ শেষ হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে ভক্তদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় যানবাহনের চাপ তীব্র হয়, যা দিনের বেলায় যানজটকে আরও ঘনীভূত করেছে। এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি প্রতি বছরই এলাকায় যানজটের একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়, কিন্তু এবার এর মাত্রা বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
মহাসড়ক পুলিশের পরামর্শ:- অনাবশ্যক ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন
- বিকল্প রুট ব্যবহার করার চেষ্টা করুন
- ধৈর্য ধরে যানজট মোকাবেলা করুন
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উৎসব শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই যানজটের অবসান হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই যাত্রীদের পরিকল্পনা করে ভ্রমণ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।



