ঈদের চতুর্থ দিনেও মিরপুর চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ভিড়
ঈদুল ফিতরের চতুর্থ দিনে মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে হাজারো মানুষ পরিবারসহ চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছেন। চিড়িয়াখানার ফটকে দর্শনার্থীদের চাপ লক্ষ্য করা গেলেও, গত দুই দিনের তুলনায় আজকের দিনে এই চাপ কিছুটা কম ছিল।
পরিবার ও শিশুদের আনন্দের কেন্দ্র
বেশির ভাগ দর্শনার্থী শিশুসন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। সৈয়দ মিয়া নামের এক দর্শনার্থী, যিনি গাজীপুর থেকে আসেন, তিনি জানান যে এবারের ঈদে কোনো বিনোদনকেন্দ্রে না যাওয়ায় আজ সবাইকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এলেন। তাঁর পাঁচ বছর বয়সী সন্তান আরিফুল ইসলাম প্রথমবারের মতো চিড়িয়াখানায় এসে খুব খুশি, বিশেষ করে জিরাফ দেখে উচ্ছ্বসিত।
সৈয়দ মিয়ার সঙ্গে থাকা সেলিনা আক্তার বলেন, "মূলত বাচ্চাদের একটু আনন্দ দেওয়া এবং পশুপাখির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যই আমরা এখানে এসেছি।" এই দৃষ্টিভঙ্গি অনেক পরিবারের মধ্যে সাধারণ, যারা ঈদের ছুটিকে শিশুদের শিক্ষামূলক বিনোদনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছেন।
বন্ধু ও যুবকদের উপস্থিতি
ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে ভোরে রওনা দিয়ে ঢাকায় আসেন সাব্বির আহমেদ ও মো. আলফাজ। তাঁদের বন্ধু রমজান আলী আগে থেকেই ঈদের ছুটিতে ঢাকায় ছিলেন। মাদ্রাসায় পড়া এই তিন বন্ধু মিলে আজ চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করেন। সাব্বির আহমেদ জানান, তিনি আগে গাজীপুরের সাফারি পার্ক ও জাতীয় চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন, কিন্তু জাতীয় চিড়িয়াখানায় ইচ্ছেমতো ঘোরাঘুরি করা যায় বলে তাঁর এখানে আসার প্রতি বেশি আগ্রহ।
অন্যদিকে, আলফাজ ও রমজান এবারই প্রথম জাতীয় চিড়িয়াখানায় এলেন। আলফাজ বলেন, "দেশের সবচেয়ে বড় চিড়িয়াখানা এটি, তাই আজ এখানে এলাম।" এই কথায় চিড়িয়াখানার আকর্ষণ ও গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
ঈদের আমেজ ও ব্যবসায়ীদের সময়
সরকারি অফিস খুললেও এখনো ঈদের আমেজ রয়ে গেছে। গাজীপুরের ছোট ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম ঈদের পর এখনো ব্যবসার কাজে যুক্ত হননি, পরিবারের সদস্যদের সময় দিচ্ছেন। তিনি জানান, ঈদের দ্বিতীয় দিন গাজীপুরের একটি পার্কে পরিবার নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন, আর আজ স্ত্রী–সন্তান নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছেন। তাঁর নয় বছর বয়সী ছেলে তাজরিয়ান ইসলাম ইতিমধ্যে হরিণ, বাঘ, সিংহসহ অনেক প্রাণী দেখে খুশি, এবং আরও প্রাণী দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
চিড়িয়াখানার বৈশিষ্ট্য
মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় বেঙ্গল টাইগার, কালো ভালুক, হায়েনা, হাতি, জলহস্তী, ক্যাঙারু, অজগর, ঘড়িয়াল, উটপাখিসহ মোট ১৩৭ প্রজাতির ৩ হাজার ৫২৩টি প্রাণী রয়েছে। এই বৈচিত্র্যময় সংগ্রহ দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করে, যা ঈদের ছুটিতে পরিবার ও বন্ধুদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ঈদের চতুর্থ দিনে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ভিড় কমলেও, সরকারি অফিস খোলার পরও মানুষদের মধ্যে বিনোদন ও পরিবারিক সময় কাটানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা ঈদুল ফিতরের উৎসবের ধারাবাহিকতাকে তুলে ধরে।



