ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার যাত্রীদের ভোগান্তি: কালোবাজারে টিকিট বিক্রি, কাউন্টারে নৈরাজ্য
ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার যাত্রীদের ভোগান্তি: কালোবাজারে টিকিট

ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার যাত্রীদের চরম ভোগান্তি: রংপুরে বাস কাউন্টারে নৈরাজ্য ও কালোবাজার

বিভাগীয় নগরী রংপুরে ঈদ উদযাপন শেষে এখন কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ফেরার জন্য হাজার হাজার মানুষ বাস টিকিটের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও সফল হচ্ছেন না। কাউন্টারগুলোতে টিকিট বিক্রির নামে চলছে চরম নৈরাজ্য, যেখানে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি হচ্ছে অত্যন্ত উচ্চমূল্যে।

কাউন্টারে টিকিটের অভাব, কালোবাজারে প্রাপ্যতা

রংপুরের কামারপাড়া এলাকায় অবস্থিত ঢাকা কোচ স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন দুই শতাধিক এসি ও নন-এসি বাস ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বড় শহরগুলোতে চলাচল করে। তবে ঈদ শেষে ফেরার এই সময়ে কাউন্টারগুলো ২৩ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত কোনও টিকিট নেই বলে ঘোষণা দিয়েছে। অথচ যাত্রীদের অভিযোগ, এই টিকিটগুলো কালোবাজারে ২-৩ গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। বিভিন্ন বাস কোম্পানির কাউন্টারগুলো সিন্ডিকেট করে আগাম টিকিট বিক্রি করে দিয়েছে, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।

যাত্রীদের কর্মস্থলে ফেরা অনিশ্চিত

টিকিট না পেয়ে হাজার হাজার যাত্রীর কর্মস্থলে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রামগামী যাত্রী আফসানা বেগম ও সাখাওয়াত হোসেনের মতো অনেকেই জানিয়েছেন, টিকিটের অভাবে তাদের চাকরিতে যোগদান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঢাকাগামী যাত্রী সালেহা বেগম ও গার্মেন্টস কর্মী আবেদা বেগম দুদিন ধরে টিকিটের জন্য ঘুরছেন, কিন্তু আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও টিকিট পাননি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সোমবার রাতে ঢাকা কোচ স্ট্যান্ডে সরেজমিন পরিদর্শনে চরম নৈরাজ্যকর অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, ঈদের আগে কোনও বাস কাউন্টার অগ্রিম টিকিট বিক্রির ঘোষণা দেয়নি। বেশিরভাগ কাউন্টারে কয়েকশ টিকিট নিজেদের কাছে রেখে কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে, যা যাত্রীদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সমতুল্য।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতি

এই নৈরাজ্য ও কালোবাজারি বন্ধে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। রংপুর ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের কোনও কর্মকর্তার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, কারণ অফিস থেকে জানানো হয়েছে তারা ঈদের ছুটিতে আছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, টিকিট নিয়ে এই বিশৃঙ্খলা চলছে অথচ দেখার কেউ নেই, যা তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকিট প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতেও ঈদের মতো উৎসব-পরবর্তী সময়ে যাত্রীদের অনুরূপ ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।