ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনে পর্যটকদের ঢল নেমেছে
ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ব্যাপক ঢল নেমেছে। দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে পর্যটকরা এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের এই ঢল সামলাতে বন বিভাগকে হিমশিম খেতে হচ্ছে, তবে তারা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রেখেছেন।
পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উৎসবমুখর পরিবেশ
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনের করমজল ও অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় ক্রমাগত বাড়ছে। মোংলা থেকে সবচেয়ে কাছের ও আকর্ষণীয় স্পট হিসেবে পরিচিত করমজলে সারাবছরই পর্যটকদের আগমন ঘটে, কিন্তু ঈদসহ বিভিন্ন ছুটিতে এই কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি পর্যটক জড়ো হন। এখানে দেশের একমাত্র কুমির ও কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র রয়েছে, পাশাপাশি বানর ও হরিণের অবাধ বিচরণ দেখা যায়।
এছাড়াও, সুন্দরবনের হাড়বাড়ীয়, হিরনপয়েন্ট, নীলকমল, কটকা, কচিখালী, আন্ধারমানিক ও দুবলা কেন্দ্রেও পর্যটকদের উল্লেখযোগ্য ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন বয়সের মানুষের পদচারণায় এখন পর্যটনকেন্দ্রগুলো উৎসবমুখর পরিবেশে মেতে উঠেছে। বর্তমানে পর্যটন মৌসুম চলছে, এবং ঈদের ছুটি এই মৌসুমে যোগ হয়েছে, যা পর্যটনকেন্দ্রগুলোর আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পর্যটকদের অভিজ্ঞতা ও বন বিভাগের পদক্ষেপ
মাগুরা থেকে আসা আসলাম শেখ বলেন, ‘বইতে পড়েছি, সুন্দরবন বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্য। তাই প্রথমবারের মতো পরিবারসহ দেখতে এসেছি, সবকিছু ঘুরে দেখলাম, খুব ভালো লেগেছে।’ পুরান ঢাকা থেকে আগত মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আত্মীয়স্বজন নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসেছি। প্রথমে গাড়িতে যাত্রা, পরে নদীতে নৌযানে করে সুন্দরবন ভ্রমণ করলাম। সবাই মিলে আনন্দ উপভোগ করেছি।’
করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির জানান, ‘ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনে পর্যটকদের ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রমজান মাসে লোকজন তুলনামূলক কম ছিল, কিন্তু ঈদের পর থেকে পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
বন বিভাগ পর্যটন মৌসুমকে ঘিরে পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, পাশাপাশি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বজায় রেখেছে। এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে তারা পর্যটকদের জন্য একটি নিরাপদ ও আনন্দদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সচেষ্ট রয়েছেন।



