পবিত্র ঈদে মুখরিত সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র, মন্ত্রীর সফর
ঈদে মুখর সিলেটের সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র, মন্ত্রীর সফর

ঈদের ছুটিতে সিলেটের সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সিলেট বিভাগের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্রটি পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার শীতল জল এবং ধলাই নদীর বুকে ছড়িয়ে থাকা সাদা পাথরের অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক এখানে ভিড় করছেন। ঈদের দিনে ভিড় কিছুটা কম থাকলেও পরদিন রবিবার উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মন্ত্রীর সফর ও পর্যটকদের উৎসাহ

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও এই দিনে সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন, যা এলাকার গুরুত্ব বাড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন থেকেই পর্যটকদের আগমন বাড়তে শুরু করেছে, নৌঘাট থেকে শুরু করে সাদা পাথরের মূল পয়েন্ট পর্যন্ত সবখানেই মানুষের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে আসা পর্যটকরা জলকেলিতে মেতে উঠছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউবা স্বচ্ছ নীল জলে সাঁতার কেটে নিজেদের ক্লান্তি দূর করছেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

পর্যটকদের বাড়তি চাপের কথা মাথায় রেখে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নৌকার ভাড়া নির্ধারণ এবং পর্যটকদের চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবকরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। ঢাকা থেকে আসা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শহরের যানজট ও কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির মাঝে ঈদের ছুটি কাটাতে এখানে এসেছি। পাহাড় ও পাথরের এই মিতালি সত্যিই অসাধারণ।’ স্বামী জাহেদ চৌধুরীকে নিয়ে ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা ব্যাংকার ও গল্পকার খন্দকার ফাহমিদা ফেরদৌস বলেন, সাদা পাথরের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য অবলোকন করতেই তার সিলেটে আসা, যা এক কথায় অপরূপ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আশা ও প্রশাসনের বক্তব্য

সাদাপাথরের হোটেল আল বেলার মালিক লিটন মিয়া জানান, ঈদের দিন থেকে পর্যটকরা সাদাপাথরে আসা শুরু করছেন এবং আজকেও প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে উঠার সময় হলো ঈদ বা কোনও উৎসব। আশা করছি ছুটির বাকি দিনগুলোতেও পর্যটকদের আগমন ঘটবে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য সুখবর বয়ে আনবে।’ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, ‘সাদাপাথরে প্রচুর পর্যটক আসছেন। তাদের সেবা দেওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কোথাও কোনও দুর্ঘটনা ঘটে নি। আশা করি আগামী দিনগুলোতেও পর্যটকদের আগমন ঘটবে এবং আমরা নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করব।’

এই পর্যটন কেন্দ্রটি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয়, বরং স্থানীয় সম্প্রদায়ের আর্থিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যা ঈদের এই উৎসবমুখর সময়ে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।