ঈদের টানা ছুটিতে পর্যটকে টইটম্বুর কক্সবাজার, লক্ষাধিক মানুষের সমাগম
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ভিড়, লক্ষাধিক উপস্থিতি

ঈদের টানা ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের বিপুল সমাগম

ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটির টানা ছুটিতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে। শনিবার ঈদের দিন রাত থেকে পর্যটকদের আগমন শুরু হলেও, রোববার সকাল থেকে মূল সমুদ্রসৈকত, বেলাভূমি ও বিভিন্ন পর্যটনস্পটগুলো মানুষে মানুষের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে গেছে। সোমবার সৈকতের সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলি পয়েন্টে যতদূর চোখ যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ দেখা যাচ্ছে, যা এই ঈদে পর্যটন শিল্পের জমজমাট অবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পর্যটক সংখ্যা ও অর্থনৈতিক প্রভাব

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা আশা করছেন যে, এই টানা ছুটিতে সাত লাখের বেশি পর্যটক কক্সবাজারে উপস্থিত থাকবেন এবং কয়েকশ কোটি টাকার বাণিজ্য সংঘটিত হবে। শনিবার রাত ও রোববার সকালে হালকা বৃষ্টি পর্যটক-দর্শনার্থীদের কিছুটা ভোগান্তিতে ফেললেও, প্রকৃত সাগরপ্রেমীরা থেমে থাকেননি। সি-সেইফ লাইফগার্ডের জয়নাল আবেদীন ভুট্টো জানান, দমে না গিয়ে পর্যটকরা নোনাজলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং বসন্তের ঠাণ্ডা-গরম আবহাওয়ায় সূর্যাস্ত দেখা ও সাগরে গোসলে নামার জন্য সব বয়সের মানুষ সৈকত ও বেলাভূমিতে ছুটে আসছেন।

পরিবহণ ও যানজটের চিত্র

পর্যটকবাহী ও সাধারণ পরিবহণ, ইজিবাইক, সিএনজি অটোরিকশা এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়ির কারণে শহরের মূল পর্যটন এলাকা ও সড়কগুলোতে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়েছে। বড় বাসগুলো টার্মিনাল এলাকায় থাকলেও মাঝারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়ি শহরে ঢোকার কারণে লোকজট দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ভিড় শুধু সৈকতেই নয়, হোটেল-মোটেল জোনের অলিগলি ও প্রধান সড়কগুলোতেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা পর্যটন নগরীর প্রাণচাঞ্চল্যকে বাড়িয়ে তুলছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন। মাঠে টহল দিচ্ছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভ্রাম্যমাণ আদালত। কক্সবাজার পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, বাড়তি পর্যটক ও দর্শনার্থী মাথায় রেখে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্কতার সাথে দায়িত্বপালন করছে পুলিশ। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে, পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে এবং পর্যটক বেশেও পুলিশের নারী সদস্যরা সৈকতে ঘুরছেন, সাথে টহলে রয়েছে এলিট ফোর্স র‌্যাবও।

হোটেল ও পর্যটন সেবার অবস্থা

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের ওসি মোহাম্মদ কেপায়েত উল্লাহ জানান, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিপুল সংখ্যক পর্যটক এই ছুটিতে কক্সবাজারে এসেছেন। পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্টের অধিকাংশ কক্ষ আগাম বুকিং দিয়ে ভর্তি হয়ে গেছে। কক্সবাজার ট্যুরস অপারেটর ওনার্স এসোসিয়েশন ও কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় দেশের মানুষ স্বস্তিতে আছে, ফলে সৈকত তীরের হোটেল-মোটেল-রিসোর্টগুলোতে আগাম বুকিং ৭০-৮০ শতাংশ পূর্ণ। শুধু শহর নয়, ইনানী, হিমছড়ি ও মহেশখালীসহ জেলার সব পর্যটন স্পটে পর্যটকের উপস্থিতি বেড়েছে, এমনকি ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কেও দর্শনার্থী সমাগম লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পর্যটকদের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

মিরপুর ৩ থেকে সপরিবারে আসা পর্যটক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, রমজানের আগে প্রবাস থেকে ফিরে এসে পুরো হোটেল ও সৈকত পর্যটকে ভর্তি দেখে তিনি অভিভূত। হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু উল্লেখ করেন, পর্যটকরা তাদের মূল লক্ষ্য এবং যান্ত্রিক জীবনের বোরিং সময় কাটাতে নানা পেশার মানুষ এখানে আসে, তাই আন্তরিক সেবায় কক্সবাজারের প্রতি সবাইকে আকৃষ্ট করার তাগাদা রয়েছে। ওশান প্যারাডাইসের বিপণন ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ নুর সোমেল জানান, ঈদপরবর্তী সাতদিন পর্যটন নগরী জমজমাট থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের ভূমিকা ও চূড়ান্ত লক্ষ্য

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এমএ মান্নান বলেন, ঈদের পর রোববার থেকেই সৈকতের সব পয়েন্টে লোকসমাগম বেড়েছে, তবে সুগন্ধা, লাবনী ও কলাতলী পয়েন্টে পর্যটক সমাগম একটু বেশি হয়। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং কোথাও পর্যটক হয়রানির অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে মাঠে ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভ্রমণ পিয়াসীদের নির্মল আনন্দ নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য, যা এই ঈদে সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।