ঈদের ছুটিতে রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়, রিসোর্টগুলো খালি নেই
ঈদে সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের ভিড়, রিসোর্ট পূর্ণ

ঈদের ছুটিতে সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম

‘বাংলার ভূস্বর্গ’ হিসেবে পরিচিত রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রিসোর্টগুলোতে খালি জায়গা পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠেছে, যা এই পর্যটন কেন্দ্রের জনপ্রিয়তা ও আকর্ষণকে আরও একবার প্রমাণ করছে।

গাড়ির প্রবাহ ও যানজটের চিত্র

ঈদের পর সোমবার সকালে খাগড়াছড়ি থেকে চারশোর বেশি গাড়ি সাজেক ভ্যালিতে প্রবেশ করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। খাগড়াছড়ির গাড়ির লাইনম্যান সৈকত চাকমা বলেন, ‘আজ খাগড়াছড়ি থেকে পিকআপ, সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল মিলে সাড়ে তিনশো গাড়ি প্রবেশ করেছে। এ ছাড়াও ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে প্রায় অর্ধশত। গাড়ি সংকটের কারণে অনেকে সাজেক যেতে পারছেন না, কারণ সাজেক থেকে গাড়ি কম বের হচ্ছে।’

সাজেকের গাড়ির লাইনম্যান ইয়াছিন আরাফাত জানান, সকাল থেকে প্রায় তিনশ গাড়ি বের হয়েছে এবং গত দুই দিনের তুলনায় আজ সবচেয়ে বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। খাগড়াছড়ি থেকে ছেড়ে যাওয়া গাড়িগুলোকে সাজেক যাওয়ার জন্য বাঘাইহাট মাঠে স্কটের জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে, যা যানজটের মাত্রা নির্দেশ করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রিসোর্ট ব্যবস্থাপনা ও পর্যটক ধারণক্ষমতা

সাজেক ভ্যালিতে ছোট-বড় মিলে মোট ১১৮টি রিসোর্ট রয়েছে, যেখানে প্রায় তিন হাজার পর্যটক একসাথে রাতযাপন করতে পারেন। রাঙামাটির সাজেক পর্যটন রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ বলেন, ‘২২ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত রুম বুকিং সম্পূর্ণ রয়েছে। যদি এর চেয়ে বেশি পর্যটক আসেন, তাহলে তাদের জন্য আশেপাশের বাসাবাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করা যাবে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘গত দেড় মাস সাজেক অনেকটা পর্যটকশূন্য ছিল। এই ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের সমাগম হওয়ায় আমরা ভালো ব্যবসা হবে বলে আশা করছি।’ এই মন্তব্য পর্যটন খাতের পুনরুজ্জীবনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

সাজেক ভ্যালির এই ঘটনা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরে। তবে, গাড়ি সংকট ও যানজটের মতো চ্যালেঞ্জগুলোও স্পষ্ট, যা ভবিষ্যতে উন্নত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই ঋতুতে আর্থিক সুবিধা পেতে উৎসাহিত হচ্ছেন, যা আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।