ঈদের দ্বিতীয় দিনে ঢাকার বিনোদনকেন্দ্রে লোকারণ্য, চিড়িয়াখানায় ১ লাখ ৯০ হাজার দর্শনার্থী
ঈদে ঢাকার বিনোদনকেন্দ্রে লোকারণ্য, চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীর ঢল

ঈদের দ্বিতীয় দিনে ঢাকার বিনোদনকেন্দ্রে লোকারণ্য

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে লাখো মানুষ রাজধানী ছেড়ে গ্রামে গেলেও, নানা কারণে অনেকে ঢাকায় রয়ে গেছেন। এই স্থানীয় ও রয়ে যাওয়া মানুষদের জন্য ঈদের দ্বিতীয় দিন, আজ রোববার, বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ঘুরতে যাওয়ার দিন হিসেবে পরিণত হয়েছে। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভিড় ও লোকারণ্য।

জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ঢল

আজ দুপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ঢল নামে। মিরপুর ১ নম্বরের সনি সিনেমা হল থেকে চিড়িয়াখানার দিকে অল্প এগোলেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে অনেকে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে নেমে যান। মানুষের ঢল থাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে রাইনখোলা মোড় থেকে চিড়িয়াখানার দিকে যানবাহন যেতে দেওয়া হচ্ছিল না। ফলে চিড়িয়াখানাগামী সব ধরনের দর্শনার্থীদের প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হয়েছে।

অন্যদিকে, চিড়িয়াখানা থেকে বের হওয়া লোকজনও যানবাহন পাননি। ফলে হাজারো দর্শনার্থীকে চিড়িয়াখানা থেকে হেঁটে মিরপুর ১ নম্বরের সনি সিনেমা হল পর্যন্ত আসতে হয়েছে। সেখান থেকে তাঁদের বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা অন্য যানবাহনে ফিরতে হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দর্শনার্থীদের আনন্দ ও অভিজ্ঞতা

তারপরও চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসতে পেরে খুশি দর্শনার্থীদের অনেকে। রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসা তুহিন আহমেদ বলেন, "ঈদের দিন বাসায় ছিলেন। তাই আজ স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছেন। সম্প্রতি তাঁরা সপরিবার সুন্দরবনে গিয়েছিলেন। বাচ্চারা সেখানে হরিণ ও কুমির দেখতে পেয়েছিল। বাঘ দেখতে পারেনি। বাচ্চাদের চিড়িয়াখানায় বাঘ দেখাতেই মূলত তাঁরা এসেছেন।"

তাঁর বড় ছেলে ১০ বছর বয়সী তাহমিদ আহমেদ জানায়, সে বাঘ দেখতে পেয়েছে এবং ময়ূরকে পেখম মেলতে দেখেছে। "এত দিন শুধু বইয়ে ছবি দেখেছে। এখন সরাসরি দেখে ভালো লাগছে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, চিড়িয়াখানায় ঈদের দ্বিতীয় দিনে ১ লাখ ৯০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটেছে, যা একটি রেকর্ড সংখ্যা বলে বিবেচিত হতে পারে।

জিয়া উদ্যান ও অন্যান্য স্থানে ভিড়

এদিকে, বিজয় সরণির দিক থেকে জিয়া উদ্যানেও প্রবেশ করতে লম্বা সারিতে দাঁড়াতে হয়েছে দর্শনার্থীদের। আজ বিকেলে দেখা যায়, ছায়ায় ঘেরা জিয়া উদ্যানের ফাঁকা জায়গায় অনেকে একসঙ্গে বসে গল্প, খাওয়াদাওয়া করছেন। অনেকে লেকের দুই ধারে থাকা বেদিতে বসে গল্প করছিলেন।

লেকের পাড়ে মা-বাবার সঙ্গে বসে ছিল আয়েশা ও আরাফাত মৃধা। আয়েশা বলে, তারা প্রথমে চিড়িয়াখানায় গিয়েছিল, পরে জিয়া উদ্যানে এসেছে। প্রথমবারের মতো চিড়িয়াখানা ও জিয়া উদ্যান দেখে তারা খুশি।

সংসদ ভবন এলাকার ফুটপাতে বসেছিল বিভিন্ন রকম খেলনা ও খাবারের দোকান। সেখানে হাজারো দর্শনার্থীর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিমানবাহিনী জাদুঘরেও দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়।

হাতিরঝিলে আলোর স্বল্পতা ও ভিড়ের প্রভাব

রাত ৮টার দিকে হাতিরঝিল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেগুনবাড়ি এলাকার অংশের হাতিরঝিলে বৈদ্যুতিক বাতির ঘাটতি রয়েছে। ফলে এই অংশে দর্শনার্থীর সংখ্যা কম।

বেগুনবাড়ি সংলগ্ন হাতিরঝিলের লালসিঁড়ি অংশে কথা হয় সেখানকার বাসিন্দা রুবেল আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, "হাতিরঝিলের এই অংশে আলোর স্বল্পতা থাকে। সে কারণে এই অংশে নিরাপত্তা সংকট রয়েছে। ফলে সন্ধ্যার পর এখানে এখন মানুষ কম থাকে। ঈদের সময়ও তার প্রভাব পড়েছে।"

তবে বিকেলের দিকে মানুষের ব্যাপক ভিড় ছিল বলে উল্লেখ করেন এখানকার ফুচকা বিক্রেতা মো. শাহ আলম। তিনি বলেন, "বিকেল সাড়ে ৪টায় এসে দুই ঘণ্টায় পাঁচ হাজার টাকার ফুচকা বিক্রি করেছেন। তবে সন্ধ্যা লাগার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ কমে গেছে। তাঁর বিক্রিও কমে গেছে।"

তারপরও সেখানে কিছু দর্শনার্থী ছিলেন। তেমনই একজন খাদিজা আক্তার। তিনি বলেন, "বাচ্চাসহ তাঁরা ১১ জন রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ঘুরতে এসেছেন। তাঁদের মেহমান এসেছে। মেহমানরা হাতিরঝিল দেখতে চেয়েছেন। দিনে সময় পাননি। তাই সন্ধ্যায় এসেছেন। এসে তাঁদের ভালোই লাগছে।"