ঈদের ছুটিতে ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড়
ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনে ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। রোববার সকাল থেকেই পরিবার নিয়ে শিশুদের নিয়ে হাজারো মানুষ চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসেন, যা যানজট ও ভোগান্তির সৃষ্টি করে।
যানজটে হেঁটে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা
সনি সিনেমা হল থেকে চিড়িয়াখানার দিকে অল্প দূরত্বেই যানজটের শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে অনেকে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নেমে হেঁটে যান। আল আমিন নামের এক দর্শনার্থী বলেন, "প্রচুর যানজট দেখে পরিবার নিয়ে হেঁটেই রওনা দিয়েছি।" রাইনখোলা মোড় থেকে চিড়িয়াখানার দিকে যানবাহন যেতে না দেওয়ায় দর্শনার্থীদের প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হয়েছে।
দর্শনার্থীদের সংখ্যা ও ব্যবস্থাপনা
জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, গতকাল সকাল ৯টায় ফটক খোলা হলেও সকাল ৮টা থেকেই লোকজন অবস্থান নিতে শুরু করে। তিনি বলেন, "আজ ১ লাখ ৯০ হাজার দর্শনার্থীর আগমন ঘটেছে, যা প্রতিবছর ঈদে সাধারণ ঘটনা।" টিকিট বিক্রি বন্ধ হয় বিকেল ৫টায়, কিন্তু ভিড়ের কারণে দর্শনার্থীরা সন্ধ্যা ৭টার দিকে বের হচ্ছিলেন।
ফিরতেও ভোগান্তি ও বাড়তি ভাড়া
চিড়িয়াখানা থেকে বের হওয়া দর্শনার্থীরাও যানবাহন পাননি, ফলে অনেককে হেঁটে সনি সিনেমা হল পর্যন্ত আসতে হয়েছে। মো. হোসাইন বলেন, "যাত্রাবাড়ী থেকে ৪০০ টাকায় এসেছিলাম, কিন্তু ফিরতে সিএনজিচালকেরা ৮০০-৯০০ টাকা চাইছেন।" তাঁর বোন রোকেয়া আক্তার যোগ করেন, "ব্যবস্থাপনা আরও ভালো হলে সাধারণ মানুষ এমন ভোগান্তিতে পড়ত না।"
দর্শনার্থীদের অনুভূতি ও উদ্দেশ্য
অধিকাংশ দর্শনার্থী পরিবার নিয়ে এসেছেন, মূলত শিশুদের ইচ্ছাপূরণের জন্য। তুহিন আহমেদ বলেন, "সন্তানদের বাঘ দেখাতেই এসেছি, কারণ সুন্দরবনে তারা বাঘ দেখতে পায়নি।" তাঁর ছেলে তাহমিদ আহমেদ উচ্ছ্বসিত হয়ে বলে, "বাঘ ও ময়ূরের পেখম দেখে খুব ভালো লেগেছে।"
চিড়িয়াখানার বৈশিষ্ট্য ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা
জাতীয় চিড়িয়াখানায় বেঙ্গল টাইগার, কালো ভালুক, হাতি, জলহস্তী, ক্যাঙারু, অজগর, ঘড়িয়াল ও উটপাখিসহ ১৩৭ প্রজাতির ৩ হাজার ৫২৩টি প্রাণী রয়েছে। পরিচালক রফিকুল ইসলাম তালুকদার ব্যাখ্যা করেন, "পার্কিং এলাকায় জটলা লেগে যাওয়ায় ট্রাফিক পুলিশ রাইনখোলা থেকে গাড়ি ফিরিয়ে দিয়েছে, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য।"
ঈদের সময় এই ভিড় ও যানজট প্রতিবছরের মতো এবারও দেখা গেছে, যা দর্শনার্থীদের জন্য আনন্দ ও কষ্টের মিশ্র অভিজ্ঞতা এনে দিয়েছে।



