পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। পর্যটকদের ব্যাপক আগমনে কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সেবাদানকারীদের মধ্যে। দিনব্যাপী পর্যটকে ভরপুর থাকায় খুশিতে আছেন এখানকার ব্যবসায়ীরাও।
পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত গোয়াইনঘাট
ভারতের মেঘালয়ের সবুজ পাহাড়, পাথর আর ঝর্ণা দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঈদের দিন থেকেই ভ্রমণে আসেন পর্যটকরা। বেশিরভাগ হোটেল-মোটেলের ৮০ শতাংশ রুম আগে থেকেই বুকিং ছিল। ঈদের দিন থেকে শুরু করে ঈদের দ্বিতীয় দিন রোববার পর্যন্ত প্রায় লাখো পর্যটক সিলেটের গোয়াইনঘাটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণে এসেছেন।
জাফলং, বিছনাকান্দি ও রাতারগুলে পর্যটকদের সমাগম
গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র প্রকৃতি কন্যা জাফলংয়ে সবচেয়ে বেশি পর্যটক ঘুরতে এসেছেন। এছাড়াও প্রকৃতির অপ্সরাখ্যাত বিছনাকান্দি ও জলারবন রাতারগুলেও ছিল পর্যটকদের ভিড়। সকালে সরেজমিনে জাফলংয়ে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই দলবেঁধে পর্যটকরা ঘুরতে বের হয়েছেন।
মেঘালয়ের পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ জলের সমাহার দেখে যেন তারা মুগ্ধ হন। পরিবার পরিজন ও বন্ধু বান্ধব নিয়ে ঘুরছেন আর ছবি তুলছেন। কেউ কেউ নৌকা নিয়ে মায়াবী ঝর্ণা, খাসিয়া পল্লি আর চা-বাগানের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন।
স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব
পর্যটকদের এই ব্যাপক আগমনে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নৌকা মাঝি, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী, ট্যুর গাইড, ফটোগ্রাফার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য। এছাড়াও ঠাঁই ছিল না এখানকার হোটেল-মোটেলগুলোতে। রেস্টুরেন্টগুলোতেও তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন পর বেচাকেনা ভালো হওয়ায় খুশিতে রয়েছেন এখানকার পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
চট্টগ্রাম থেকে সপরিবারে বেড়াতে এসে আব্দুল গফুর মিয়া বলেন, "ঈদের ছুটি পেয়ে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। এখানকার চারপাশের পরিবেশ খুব চমৎকার। দীর্ঘদিন পর বেড়াতে আসলাম। পাহাড়, পানি আর ঝুলন্ত ব্রিজ দেখলাম। খুব ভালো লাগল।"
বৃহত্তর জাফলং পর্যটনকেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, "ঈদের ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরাও খুশি। পর্যটকদের সেবাদানে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।"
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
ট্যুরিস্ট পুলিশ জাফলং জোনের ইনচার্জ তপন তালুকদার বলেন, "পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকে লক্ষ রয়েছে।"
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী জানান, "পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারের ঈদেও পর্যটকদের নিরাপত্তায় থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার, রোভার স্কাউটের সদস্যরা ও স্থানীয়রা ডুবুরিরা কাজ করছে।"
এই ঈদে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর প্রাণ ফিরে পাওয়া স্থানীয় অর্থনীতির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।



