ঈদ ও ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম
ঈদুল ফিতর এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা ছুটির দিনে কক্সবাজারে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় বেড়েছে। রবিবার (২২ মার্চ) সকাল থেকেই সৈকত ও বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে নানা বয়সী মানুষের সমাগম লক্ষ্য করা গেছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
পর্যটকদের উৎসাহ ও ভোগান্তি
শনিবার রাত ও রবিবার সকালে হালকা বৃষ্টি কিছুটা ভোগান্তি সৃষ্টি করলেও, সাগরপ্রেমী পর্যটকরা দমে না গিয়ে নোনাজলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। সী-সেইফ লাইফ গার্ডের কর্মী জয়নাল আবেদীন ভুট্টো জানান, বসন্তের আবহাওয়ায় সূর্যাস্ত দেখার জন্য এবং সাগরের নোনাজলে গোসল করতে মানুষ সৈকত ও বেলাভূমিতে উপস্থিত হচ্ছেন।
যানজট ও ভিড়ের চিত্র
হোটেল-মোটেল জোনের অলিগলি রাস্তায় পর্যটকদের ভিড় এবং যানজট লক্ষ্য করা গেছে। বড় বাসগুলো টার্মিনালে থাকলেও মাঝারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়িগুলো শহরে ঢুকে যানজট সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন পর তিল ধারণের ঠাঁই নেই এমন অবস্থা কক্সবাজারে, যেখানে পর্যটকবাহী ও সাধারণ পরিবহন, ইজিবাইক, সিএনজি অটোরিক্সায় বাইবাস সড়ক, কলাতলী ডলফিন মোড়, হোটেল-মোটেল জোন, লাবণী, সুগন্ধা পয়েন্ট সবখানেই ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
টইটম্বুর পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্তক অবস্থায় দায়িত্বপালন করছেন ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশ। মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশও, এবং মাঠে টহল দিচ্ছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ ভ্রাম্যমান আদালত। কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের ওসি মোহাম্মদ কেপায়েত উল্লাহ জানান, টানা ছুটিকে টার্গেট করে পূর্ব পরিকল্পনায় বিপুল সংখ্যক পর্যটক কক্সবাজার এসেছেন।
ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
সাগরপাড়ের তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, "পর্যটক আমাদের লক্ষী। যান্ত্রিক জীবনের বোরিং সময় ছাড়তেই ভ্রমণের বের হন নানা পেশার মানুষ। আন্তরিক সেবায় কক্সবাজারের প্রতি সবাইকে আকৃষ্ট করার তাগাদা আমাদের।" পর্যটনকেন্দ্রিক পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্টের অধিকাংশ কক্ষ সপ্তাহ-পক্ষকাল আগে থেকেই আগাম বুকিং হয়ে আছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
প্রশাসনের ভূমিকা
কক্সবাজার পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, বাড়তি পর্যটক ও দর্শনার্থীকে মাথায় রেখে সর্তক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে ও পর্যটক বেশে নারী পুলিশ সদস্যরাও সৈকতে টহল দিচ্ছেন, এবং র্যাবের এলিট ফোর্সও মাঠে রয়েছে। জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান জানান, সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টে পর্যটক সমাগম বেশি, এবং পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করা প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই ছুটিতে প্রায় সাত লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসবেন এবং এতে কয়েকশ কোটি টাকার বাণিজ্য হবে। হোটেল ও মোটেলে আগমণকারী পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য আশাব্যঞ্জক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে পর্যটনস্পটগুলো, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।



