থাইল্যান্ডে বিদেশি পর্যটকদের ভিসামুক্ত মেয়াদ ৬০ থেকে ৩০ দিনে কমানোর প্রস্তাব
থাইল্যান্ডে পর্যটক ভিসামুক্ত মেয়াদ ৩০ দিনে কমানোর প্রস্তাব

থাইল্যান্ডে পর্যটক ভিসামুক্ত মেয়াদ কমানোর প্রস্তাব

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশি পর্যটকদের জন্য ভিসামুক্ত অবস্থানের মেয়াদ ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করার প্রস্তাব আনতে যাচ্ছে। বর্তমানে এই ভিসাব্যবস্থার অপব্যবহার এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের কথা বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে পর্যটকেরা অতিরিক্ত ৩০ দিন থাকার সুযোগ পাবেন।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও সম্প্রতি ফুকেট শহর সফর করেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এ ব্যবস্থার বিভিন্ন নেতিবাচক দিক তুলে ধরেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে, ৬০ দিনের ভিসায় এসে অনেক বিদেশি স্থানীয়দের জন্য সংরক্ষিত খাতে ব্যবসা শুরু করছেন। এ ছাড়া ভুয়া মালিকানা ব্যবহার করে অবৈধভাবে সম্পত্তিও কিনছেন।

অনলাইনে প্রতারণার চক্রে জড়িত অনেককেই গ্রেপ্তারের পর দেখা গেছে, তাঁরা পর্যটক ভিসায় থাইল্যান্ডে প্রবেশ করেছিলেন। সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও বলেন, "প্রকৃত পর্যটনের বাইরে অন্য উদ্দেশ্যে প্রবেশকারীরা ভিসার এই দীর্ঘ সময়সীমার সুযোগ নিচ্ছেন। বাস্তবে অধিকাংশ পর্যটকের জন্য ৩০ দিনই যথেষ্ট।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভিসানীতি তদারকি কমিটির বক্তব্য

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভিসানীতি তদারকি কমিটি বলছে, দেশটিতে ভিসার ক্ষেত্রে বর্তমান সময়সীমা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা নাগরিকদের লক্ষ্যে নয়; মূলত অনলাইন প্রতারণা ও অন্যান্য অপব্যবহার রোধ করাই এর উদ্দেশ্য।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এসব চক্রের সদস্যরা দীর্ঘ ভিসামুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে থাইল্যান্ডে প্রবেশের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোতেও যাতায়াত করছেন। সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও আরও বলেন, "থাইল্যান্ড বিদেশি পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে একই সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে বা পর্যটনের সীমার বাইরে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ তৈরি করে এমন ফাঁকফোকর বন্ধ করাও জরুরি।"

পর্যটন খাতের ইতিহাস

পর্যটন খাতকে চাঙা করতে থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিন সরকারের সময় ৬০ দিনের ভিসামুক্ত সুবিধা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু এখন অপব্যবহারের কারণে তা সংশোধন করা হচ্ছে। ভিসামুক্ত প্রবেশের আওতায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকেরা ৩০ দিন থাকতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আরও ৩০ দিনের জন্য মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ পাবেন।

এই পরিবর্তনটি থাইল্যান্ডের পর্যটন শিল্পে একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে, যেখানে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি প্রকৃত পর্যটকদের সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।