ঈদযাত্রায় তিস্তা এক্সপ্রেসে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি
জামালপুরের ইসলামপুর রেলস্টেশনে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনে ঈদযাত্রার সময় যাত্রীদের মারাত্মক ভোগান্তির অভিজ্ঞতা হয়েছে। ট্রেনের ‘ত’ বগিতে আসন পাওয়া যাত্রীরা টিকিটবিহীন যাত্রীদের ভিড়ে নিজেদের আসনে পৌঁছাতে হিমশিম খেয়েছেন।
ট্রেনে উঠতে না পেরে যাত্রীদের আকুতি
ট্রেনের দরজায় পা ফেলার মতো সামান্য জায়গাও ছিল না, যেখানে নারী, শিশু, পুরুষ ও বৃদ্ধরা ঠাসাঠাসি অবস্থায় ছিলেন। একজন যাত্রী বলেন, ‘টিকিটের আসন পর্যন্ত পৌঁছানোটা রীতিমতো দুরাশা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।’ অনেক চেষ্টায় দরজায় এক পা রাখার জায়গা মিললেও, ভেতরে প্রবেশ করা কঠিন ছিল।
প্ল্যাটফর্ম থেকে এক যাত্রী আকুতি জানালেন, ‘হাইরে, এক হাজার টাকায় বেলেকে টিকিট কিইন্নাও ট্রেনে উঠতে পারতাছি না।’ এই অবস্থায় নিরুপায় হয়ে দুই যাত্রী নিজ আসনসংলগ্ন জানালা দিয়ে ভেতরে ঢুকতে বাধ্য হন, একজন আরেকজনকে ঠেলে দেন এবং সহযাত্রীর সহায়তায় প্রবেশ করেন।
টয়লেটে দাঁড়িয়ে যাওয়া এবং ছাদে ঠাসাঠাসি
ট্রেনের টয়লেটের হাতলে ঝুলে থাকা এক যাত্রী দেখেন, দুজন নারী টয়লেটের সামনে বসা অবস্থায় উঠে দাঁড়িয়ে আকুতি জানাচ্ছেন। ‘ভাই, আঙ্গোরে ইকটু নামতে দেন। এম্নে যাওন সম্ভব না। দুম বন্ধ হইয়া মইরা যামু, এর চেয়ে জ্যাম ঠেইল্লা বাসে যামু।’ এই কথা বলে তারা নেমে যান।
ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার পর দেখা যায়, অধিকাংশ যাত্রীর টিকিট নেই এবং কপালের নাম করে ট্রেনে উঠে পড়েছেন। কেউ কেউ ছাদে উঠে বসেছেন, সেখানেও গাদাগাদি অবস্থা। ভেতরের যাত্রীরা নিজেদের আশ্বস্ত করছিলেন যে, অন্তত ছাদ থেকে পড়ে হতাহত হওয়ার ঝুঁকি নেই। ময়মনসিংহ পর্যন্ত টয়লেটের ভেতর তিনজন নারী যাত্রী ঠাঁই নিয়েছিলেন।
জানালা দিয়ে যাত্রী ওঠার ঘটনা
বিমানবন্দর রেলস্টেশনের ঠিক আগে, এক যাত্রী নিজ পাশের জানালার শাটার নামিয়ে দেন। ট্রেনটি থামার পর এক নারী যাত্রী ও এক কিশোরী জানালায় কড়া নাড়েন, কিন্তু ভেতরের যাত্রী শাটার খুলতে অস্বীকৃতি জানান। পরিবারটির এক পুরুষ সদস্যের হুমকির পর শাটার উঠে এবং তারা ঝুঁকি নিয়ে জানালা দিয়ে বগিতে ঢুকেন।
এই ঘটনা প্ল্যাটফর্মে থাকা কেউ কেউ ধারণ করেন, যা পুরো ট্রেনের ভিড় ও ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে। বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে ছাড়ার পর যাত্রীরা হাঁপ ছাড়লেও, সময় যত গড়াল, গাদাগাদি, হাঁসফাঁস ও অস্থিরতা বাড়তে থাকে। শিশুদের কান্না ও মেজাজ হারানো মানুষের চড়া গলা ভেসে আসে।
দুই ঘণ্টা লেটে গন্তব্যে পৌঁছানো
প্রায় দুই ঘণ্টা লেট করে বেলা আড়াইটার দিকে ট্রেনটি জামালপুরের ইসলামপুর রেলস্টেশনে পৌঁছায়। যাত্রী বলেন, ‘প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেনের দিকে তাকাতেই একটি কথা মনে এল, এ আমার ট্রেন না। যদি হতো তাহলে নিশ্চয় এমন সব তিক্ত অভিজ্ঞতা হতো না।’ এই ঘটনা ঈদযাত্রায় রেল পরিষেবার চিত্র উন্মোচন করেছে।



