ঈদে টানা ১০ দিনের ছুটি: কক্সবাজারে পর্যটন জমজমাট হওয়ার আশা
ঈদে ১০ দিন ছুটি, কক্সবাজারে পর্যটন জমজমাট

ঈদে টানা ১০ দিনের ছুটি: কক্সবাজারে পর্যটন জমজমাট হওয়ার আশা

মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরে শবে কদর, সাপ্তাহিক ছুটি এবং ঈদের ছুটি মিলিয়ে টানা ১০ দিনের দীর্ঘ ছুটি পাচ্ছেন সবাই। ১৭ মার্চ থেকে এই ছুটি শুরু হলেও পর্যটন খাতে এর প্রভাব পড়বে ২২ মার্চ থেকে। পবিত্র রমজান মাসজুড়ে প্রায় পর্যটকশূন্য থাকা কক্সবাজারে ২৮ মার্চ পর্যন্ত লোকারণ্য থাকবে বলে আশাবাদী পর্যটন ব্যবসায়ীরা। অতীতের মতো এবারও টানা ছুটিতে লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটবে—এমন প্রত্যাশা সবার মধ্যে জোরালো হয়ে উঠেছে।

পর্যটকদের জন্য প্রস্তুতি ও বুকিং পরিস্থিতি

টানা ছুটির সুযোগে চাকরিজীবীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছেন। নানা পেশার মানুষও ছুটিকে কাজে লাগিয়ে আনন্দভ্রমণের ছক আঁকছেন। এতে ঈদুল ফিতরে দরিয়ানগরের ঝিমিয়ে পড়া পর্যটন আবারও জমে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সৈকতে জেটস্কি, বিচ বাইক, ঘোড়া, কিটকট এবং ফটোগ্রাফাররা প্রস্তুত। বিশেষ করে সৈকতপাড়ে শামুক-ঝিনুক ও বার্মিজ পণ্যের দোকানিরাও নতুনভাবে সাজিয়েছেন তাদের দোকান। কয়েক দশক পর ভাসমান দোকান ছাড়া ভিন্নধর্মী সৈকত দেখবেন পর্যটকরা—এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের।

ভ্রমণপিপাসুদের বড় একটি অংশ আগাম বুকিং দিয়েছেন। তারকা হোটেলগুলোতে ২২ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত অধিকাংশ কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। হোটেল-গেস্টহাউসেও কমবেশি বুকিং রয়েছে। এরপরও কিছু কক্ষ খালি থাকবে। ওয়াক-ইন অতিথি বাড়লে পর্যটন ব্যবসা আরও চাঙ্গা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাগরপাড়ের তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, “সিয়াম সাধনার মাসে পর্যটন খাত ফাঁকাই গেছে। তবে ঈদের টানা ছুটিকে ঘিরে মানুষ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন। আগাম বুকিং সেটারই প্রমাণ। আন্তরিক সেবার মাধ্যমে কক্সবাজারের প্রতি সবাইকে আকৃষ্ট করাই আমাদের লক্ষ্য।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হোটেল ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি

কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, “নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। সৈকত তীরের ৫ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। ইতোমধ্যে ৭০-৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে।” ঈদ উপলক্ষে হোটেল-মোটেলগুলো নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতার দিকেও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ওশান প্যারাডাইসের বিপণন ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ নুর সুমেল জানান, ঈদের দ্বিতীয় দিন ব্যান্ডদল ‘শিরোনামহীন’-এর পরিবেশনা ও গালা ডিনারের আয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য হোটেলেও বিশেষ আয়োজন থাকছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ প্রস্তুতি নিয়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন টিম গঠন করা হয়েছে এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হবে। জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, “ঈদে পর্যটক ছাড়াও স্থানীয় দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়বে। নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ম্যাজিস্ট্রেটের একাধিক টিম টহলে থাকবে। পুলিশ, র্যাবসহ সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও দায়িত্ব পালন করবে।”

পর্যটন স্পটগুলোর সাজসজ্জা

জেলা সদরের বাইরে হিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানী, মহেশখালী ও বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কসহ সব পর্যটন স্পট সাজানো হচ্ছে। ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে দর্শনার্থীদের বরণে তারা প্রস্তুত। পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এই টানা ছুটিতে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প নতুন গতি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সব মিলিয়ে ঈদের আনন্দে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য কক্সবাজার প্রস্তুত হয়ে উঠছে উৎসবমুখর পরিবেশে।