ঈদযাত্রায় টাঙ্গাইলে ১০ ঘণ্টা আটকে, উত্তরের পথে যানজটে ভোগান্তি
ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে উত্তরের জেলাগুলোর দিকে যাত্রীদের জন্য এবারও যানজট ও ভোগান্তির শেষ নেই। ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী বা গাইবান্ধার মতো জেলাগুলোতে যাত্রা করতে গিয়ে অনেকেই পথে আটকে পড়ছেন দীর্ঘ সময় ধরে। বিশেষ করে টাঙ্গাইল ও যমুনা সেতু এলাকায় যানজটের তীব্রতা দেখা দিয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগছে পথ পাড়ি দিতে।
ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত ১০ ঘণ্টার যাত্রা
একজন যাত্রীর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, তিনি ঢাকার শ্যামলী থেকে রাত ১০টায় বাসে করে রওনা দিয়েছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে। যমুনা সেতুর টোল প্লাজা পর্যন্ত পৌঁছাতে তাঁর সময় লেগেছে প্রায় ১০ ঘণ্টা, যা সাধারণত ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে হয়ে থাকে। বৃষ্টিভেজা রাস্তা ও যানজটের কারণে এই দীর্ঘ সময় পথে আটকে থাকতে হয়েছে তাঁকে।
যাত্রাপথে নবীনগর, বাইপাইল, চন্দ্রা ও কালিয়াকৈর এলাকায় যানজটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বাসচালকরা যানজট এড়াতে বিকল্প পথ বেছে নিলেও টাঙ্গাইলের কাছাকাছি এসে আবারও থমকে দাঁড়াতে হয়েছে। সেখানে সারি সারি যানবাহন পথে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, যার ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে বহুগুণ।
যানবাহনের অব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অভাব
ঈদযাত্রায় এবার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের উপস্থিতি খুবই কম চোখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যেখানে-সেখানে বাস দাঁড়ানো, যাত্রী ওঠানামা করা এবং উল্টো লেন ব্যবহার করার ঘটনা ঘটছে, যা যানজটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
একজন বেসরকারি চাকরিজীবী মোহাম্মদ আলী ফিরোজের মতে, "উত্তরবঙ্গে ঈদযাত্রায় নিয়মিত যাঁরা আসেন, তাঁরা জানেন যে ৮ ঘণ্টার রাস্তা পাড়ি দিতে ১৮ থেকে ২২ ঘণ্টা লাগতে পারে। কার্যকর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও লোকাল গাড়ির লাগাম টানা না গেলে এই দুর্ভোগ কমানো কঠিন।"
অন্য একজন যাত্রী রওশন জামাল মিলন জানিয়েছেন, তিনি ঢাকার আজমপুর থেকে রাজশাহী যাওয়ার জন্য গত রাতে চন্দ্রায় বাসে ওঠার কথা ছিল, কিন্তু বাস ছাড়তে দেরি হয়েছে। ভোর ৫টায় বাস ছাড়ার পর দুপুর ১২টার দিকেও তিনি সিরাজগঞ্জের হাটিকুমড়ুল এলাকায় যানজটে আটকে ছিলেন।
যাত্রীদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের আশা
ঈদযাত্রায় যানজট ও ভোগান্তি একটি নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে উত্তরের পথে। যাত্রীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে ভবিষ্যতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে এবং যানবাহনের অব্যবস্থাপনা দূর হবে।
সবশেষে, যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা কামনা করা হচ্ছে, পাশাপাশি যাত্রাপথের সব অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তি দূর হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।



