ঈদে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বৃষ্টি ও যানজটে নাকাল যাত্রীরা
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। ১৮ মার্চ বুধবার দুপুরের পর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গাজীপুরের শিল্প কারখানাগুলো ছুটি হওয়ার পর থেকেই মূলত এই জনস্রোতের সৃষ্টি হয়। তবে অতিরিক্ত যাত্রী ও যানবাহনের চাপে মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট, যা আকস্মিক বৃষ্টির কারণে রূপ নিয়েছে চরম ভোগান্তিতে।
মহাসড়কের অচলাবস্থা
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের কোনাবাড়ী থেকে চন্দ্রা এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের জিরানি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত এলাকা যানজটে কার্যত স্থবির হয়ে আছে। উত্তরবঙ্গগামী লেনে যানবাহনগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মাত্র ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে যাত্রীদের সময় লাগছে ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা।
যাত্রীদের ভোগান্তি
যানজটের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে হাঁটতে দেখা গেছে। বাসের তীব্র সংকটে অনেকে বাধ্য হয়ে ট্রাক, পিকআপ ভ্যান এমনকি ঝুঁকি নিয়ে হাইয়েস গাড়িতে করে গন্তব্যে রওনা হয়েছেন। অন্যদিকে, ঢাকামুখী লেনেও অটোরিকশা ও হেঁটে যাত্রীদের চন্দ্রার দিকে অগ্রসর হতে দেখা যায়।
বিকেলের দিকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে খোলা ট্রাক ও পিকআপে থাকা যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। বৃষ্টির কারণে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। কোনাবাড়ী থেকে আসা পোশাক শ্রমিক জাহাঙ্গীর হাসান বলেন, "দুপুরে ছুটি হওয়ার পর দ্রুত তৈরি হয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। কিন্তু পথে যে যানজট আর বৃষ্টি। কোনাবাড়ী থেকে চন্দ্রা আসতেই দুই ঘণ্টা পার হয়েছে। ভিজে শরীর একাকার, তবুও পরিবারের সাথে ঈদ করার টানে কষ্ট মেনে নিয়ে সামনে এগোচ্ছি।"
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান সফিপুর আনসার একাডেমি এলাকায় আটকে থাকা যাত্রী রবিউল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তা পার হতে দুই ঘণ্টার বেশি লেগেছে। যে অবস্থা, তাতে চন্দ্রা পৌঁছাতে আরও কত সময় লাগবে জানি না।"
নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টা
মহাসড়কের এই অচলাবস্থা নিরসন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে ও জেলা পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বৃষ্টির মধ্যেও তারা যানজট নিরসনে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে যাত্রীদের হুড়োহুড়ি এবং যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তোলার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে।
কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, "মহাসড়কে যাত্রীর তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা কম থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে। এছাড়া বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।"
ভবিষ্যত আশঙ্কা
গাজীপুরের শিল্প নগরী থেকে উত্তরবঙ্গগামী এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটিতে রাত বাড়ার সাথে সাথে ভিড় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে বলে জানান অনেক চালক। বৃষ্টি আর জ্যাম দুয়ের মিশেলে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ধৈর্য ধারণ এবং কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।



