ঈদে গাজীপুরে তীব্র যানজট, চন্দ্রা-ত্রিমোড়ে ১২ কিলোমিটার জ্যাম
ঈদে গাজীপুরে তীব্র যানজট, চন্দ্রা-ত্রিমোড়ে জ্যাম

ঈদের ছুটির প্রাক্কালে গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই যানজট চরম আকার ধারণ করে, যার ফলে হাজারো যাত্রী ও চালকরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে পোশাক শ্রমিকরা কারখানা ছুটি পেয়ে ঘরমুখো হওয়ায় মহাসড়কগুলোতে মানুষের চাপ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।

যানজটের বিস্তার ও কারণ

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী থেকে চন্দ্রা ত্রিমোড় পর্যন্ত এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের বাইপাইল এলাকা থেকে ত্রিমোড় পর্যন্ত যানজট ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উল্লেখযোগ্য যানজট দেখা যায়নি, তবে টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার বিআরটি লেনে জ্যাম লেগে আছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, অতিরিক্ত যানবাহন, সড়কের সংকীর্ণতা এবং নির্ধারিত স্থানের বাইরে গাড়ি থামানোই এই ভোগান্তির মূল কারণ।

শ্রমিকদের ভিড় ও পরিবহন সংকট

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে প্রায় পাঁচ হাজার ছোট-বড় কারখানা রয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে মঙ্গলবার ২৫ শতাংশ এবং বুধবার অধিকাংশ কারখানা ছুটি দিয়েছে। এর ফলে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা বাসগুলো যাত্রীপূর্ণ থাকায় চন্দ্রা এলাকায় স্থানীয় যাত্রী তোলার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। মহাসড়কের দুই পাশে অসংখ্য যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলো আগে থেকেই কারখানা শ্রমিকদের জন্য রিজার্ভ করা ছিল।

এছাড়া, আশপাশের এলাকা থেকে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়ায় যাত্রী ওঠানামার সময় যানজট আরও তীব্র হচ্ছে। কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সওগাতুল আলম বলেন, “মঙ্গলবার থেকেই যাত্রীচাপ বাড়তে শুরু করেছে, বুধবার দুপুরের পর তা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। মহাসড়কের পাশে শ্রমিকদের জন্য ভাড়া করা গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় যানজটের চাপ বেড়েছে।”

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা

অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও যাত্রী ও যানবাহনের চাপের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিমশিম খাচ্ছে। চন্দ্রা এলাকার পোশাক শ্রমিক খোকন মিয়া বলেন, “মঙ্গলবার কারখানা ছুটি হয়েছে, বুধবার সকালে রওনা দিয়েছি। যানজট থাকলেও গাড়ির সংকট নেই, দরদাম করে যেকোনোভাবে বাড়ি চলে যাব।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, বৃহস্পতিবার আরও ৮৩৩টি কারখানা বন্ধ হবে, ফলে আগামী কয়েক দিন যাত্রীচাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে সড়ক অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং অতিরিক্ত চাপের মুখে ভোগান্তি কমছে না।