ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে ব্যাপক পর্যটক সমাগমের অপেক্ষা
পবিত্র রমজান মাস প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছে, আর এরপরই ঈদুল ফিতরের ছুটিতে শুরু হবে ঘুরে বেড়ানোর ধুম। এবারের ঈদের ছুটিতে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণে আসতে পারেন অন্তত ১০ লাখ পর্যটক। এই বিপুল সংখ্যক অতিথিদের বরণ করে নিতে ইতিমধ্যে প্রস্তুত হয়ে গেছে শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস এবং সাত শতাধিক রেস্তোরাঁ। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান সমন্বিত প্রস্তুতি নিয়েছে।
হোটেল বুকিং ও ব্যবসায়িক প্রত্যাশা
পর্যটন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটিতে কয়েক লাখ পর্যটকের আগমন ঘটবে কক্সবাজারে। ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি হোটেল-মোটেলের কক্ষ আগাম বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। হোটেল মালিকরা আশা করছেন, ঈদের আগে এবং ছুটির দিনগুলোতে শতভাগ বুকিং হবে। বিগত বছর ঈদের ছুটিতে প্রায় সাত লক্ষাধিক পর্যটক এসেছিলেন, তখন পর্যটন সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা হয়েছিল প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। এবারও একই রকম বা তার চেয়ে বেশি পর্যটকের সমাগম ও ব্যবসায়িক লাভের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, বিশেষ করে ছুটি বেশি হওয়ায়।
পর্যটন কেন্দ্রগুলোর প্রস্তুতি
পর্যটকরা শুধু সৈকত ভ্রমণেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না; তারা কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক, টেকনাফ সমুদ্রসৈকত, ইনানী সৈকত, পাটোয়ারটেক, রামুর বৌদ্ধপল্লি, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, সাগরদ্বীপ মহেশখালী, সোনাদিয়া দ্বীপসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থান পরিদর্শন করবেন। ইতিমধ্যে এসব বিনোদনকেন্দ্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সজ্জিত করা হয়েছে। সৈকতে দ্রুতগতির জলযান যেমন জেডস্কি, স্পিডবোট, টিউব এবং কিটকট বসানোর কাজও চলছে।
ব্যবসায়ীদের মতামত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বিচ বাংলা ট্যুরিজমের ব্যবস্থাপক মো. আবদুল্লাহ বলেন, ‘চলতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পর্যটনে ব্যবসা কম ছিল, তাই এবারের ঈদে বাড়তি বিনোদন সেবা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’ কক্সবাজার বৃহত্তর বিচ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান উল্লেখ করেন, ‘ঈদের ছুটিতে দিনে অন্তত এক থেকে দেড় লাখ পর্যটকের সমাগম হবে, যা ব্যবসায় চাঙাভাব আনবে।’
নিরাপত্তার দিক থেকে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পারভেজ আহমদ জানান, সিসি ক্যামরা ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে সমুদ্রসৈকত ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে। হোটেল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রশাসনের একাধিক বৈঠকেও পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিতের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
আঞ্চলিক আকর্ষণ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
কক্সবাজারের আশেপাশের এলাকাগুলোতেও পর্যটকদের আগ্রহ রয়েছে। যেমন:
- ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক: ৫২ প্রজাতির ৩৪১টি প্রাণী সহ একটি জনপ্রিয় গন্তব্য।
- দরিয়ানগর পর্যটনপল্লি: ৪০০ বছরের পুরোনো শাহেনশাহ গুহা ও ঝুলন্ত সেতু।
- হিমছড়ি ঝরনা: শীতল জল ও পাহাড়চূড়ার দৃশ্য আকর্ষণীয়।
- মহেশখালী: মৈনাক পাহাড়চূড়ার আদিনাথ মন্দির ও রাখাইনপল্লি।
- টেকনাফ: ঐতিহাসিক মাথিন কূপ ও নাফ নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
ফেডারেশন অব ট্যুরিজম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা যায়, পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলের দৈনিক ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৬০ হাজার পর্যটক, এবং এ সময় পর্যটন সংশ্লিষ্ট নানা খাতে অন্তত ৪০০ কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশাবাদী যে, এবারের ঈদের ছুটিতে তারা লাভের মুখ দেখবেন এবং কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প নতুন গতি পাবে।



