ঈদ যাত্রায় উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহগামী যাত্রীদের চরম ভোগান্তি
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে ঢাকাবাসী। তবে যাত্রার শুরুতেই চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহগামী যাত্রীরা। রাজধানীর অন্যতম প্রবেশদ্বার আব্দুল্লাহপুরে সোমবার (১৭ মার্চ) বিকাল থেকে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। একদিকে তীব্র যানজট, অন্যদিকে পরিবহণের তীব্র সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে নাকাল সাধারণ মানুষ।
যানজট ও বাস সংকটে স্থবিরতা
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এয়ারপোর্ট, আজমপুর, হাউজ বিল্ডিং এবং আব্দুল্লাহপুর এলাকায় যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা। আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কে যানবাহনের ধীরগতির কারণে পুরো এলাকায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের জন্য অপেক্ষা করেও অনেকে যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন না। উত্তরা আজমপুর পাবনা এক্সপ্রেসের ম্যানেজার বাচ্চু বলেন, "গাজীপুর ও এর আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের কারণে গাড়ি সময়মতো ফিরতে পারছে না। শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে যাত্রী জট তৈরি হয়েছে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।"
ভাড়ার লাগামহীনতা ও যাত্রীদের ক্ষোভ
যাত্রীদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো ভাড়ার লাগামহীনতা। রংপুরগামী যাত্রী আল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "স্বাভাবিক সময়ে রংপুর যেতে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা লাগে, কিন্তু এখন চাওয়া হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা। সড়কমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কাউকে দেখা যাচ্ছে না।" একই চিত্র দেখা গেছে ময়মনসিংহগামী যাত্রীদের ক্ষেত্রেও। গার্মেন্টস কর্মী আকলিমা বেগম বলেন, "বিকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি, বাস পাচ্ছি না। বাসের আশায় থেকে শেষ পর্যন্ত ট্রাকে করে যাওয়ার চিন্তা করছি।"
দেখা গেছে, ট্রাক বা পিকআপ ভ্যানে জনপ্রতি ৫০০-৫৫০ টাকা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করছেন অনেক নিম্নআয়ের মানুষ। বাড়তি ভাড়ার অভিযোগের বিষয়ে কাউন্টার মাস্টারদের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, ঢাকা থেকে বাসগুলো যাত্রী নিয়ে গেলেও ফেরার পথে ফাঁকা আসতে হচ্ছে। তাই খরচের সমন্বয় করতে ভাড়া কিছুটা বেশি নেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও আশঙ্কা
প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো না হলে এবং মহাসড়কের যানজট নিরসন না হলে ঘরমুখো মানুষের এই ভোগান্তি ঈদের আগের দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের টিআই ইউনুস মিয়া আখন্দ জানিয়েছেন, ঈদ যাত্রায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। তিনি বলেন, "কোনো বাস যদি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে, তবে যাত্রীদের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি। আজকেও এমন দুটি মামলা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাস কাউন্টারে অতিরিক্ত ভাড়ার প্রমাণ পেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
তিনি আরও জানান, ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিআরটি প্রকল্পের উড়াল সড়কটি একমুখী করে দেওয়া হয়েছে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। তবে যাত্রীদের মতে, এই পদক্ষেপগুলো পর্যাপ্ত নয় এবং দ্রুত সমাধান না হলে ঈদ যাত্রা আরও বিপর্যস্ত হতে পারে।
