ঈদযাত্রায় সদরঘাটে সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও যাত্রীদের স্বস্তি
শুরু হয়ে গেছে ঈদুল ফিতরের আনন্দময় ছুটি। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের উৎসব ভাগ করে নিতে কর্মজীবী মানুষজন রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ির দিকে ছুটছেন। নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে অসংখ্য মানুষ, যার ফলে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। তবে এবারের ঈদযাত্রা বেশ সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে, বিশেষ করে অসুস্থ ও পঙ্গু যাত্রীদের জন্য ডেক ক্যাডেটদের সহায়তা এবং কম ভাড়ায় টিকিট পাওয়ার সুবিধা সবার নজর কেড়েছে।
ডেক ক্যাডেটদের তৎপরতা ও যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘুরে দেখা গেছে, বিআইডব্লিউটিএ’র অধীনে নিয়োজিত ডেক ক্যাডেটরা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যস্ত। তারা অসুস্থ ও পঙ্গু যাত্রীদের লঞ্চে উঠতে সাহায্য করছে, যা যাত্রীদের মধ্যে প্রশংসা পেয়েছে। ডেক ক্যাডেট খালিদুর ও আতিকুল্লাহ জানান, তারা গত দু’দিন ধরে এখানে নিয়োজিত এবং আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত শিফটিং অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের মূল লক্ষ্য হলো সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যাত্রীদের সুবিধা প্রদান।
বরিশালগামী যাত্রী আরিফুল ইসলাম বলেন, “অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঘাটের পরিবেশ অনেক শান্ত। ভাড়া নিয়ে কোনও বাড়তি চাপ নেই, আমি নির্ধারিত ৪০০ টাকাতেই টিকিট পেয়েছি।” অন্যদিকে, অসুস্থ বাবাকে নিয়ে বাড়ি ফিরছেন মরিয়ম বেগম, যিনি ডেক ক্যাডেটদের সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “ছেলেগুলো খুব সাহায্য করছে। বাবাকে লঞ্চে উঠাতে আমার খুব কষ্ট হতো যদি ওরা এগিয়ে না আসতো। এমন উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়।”
ভাড়া কম থাকায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি
ঈদের সময় সাধারণত ভাড়া বেড়ে যায় বলে ধারণা থাকলেও এবার যাত্রীরা কম ভাড়ায় টিকিট পাচ্ছেন। বরিশালগামী যাত্রী কামরুল হাসান জানান, “সরাসরি বরিশালগামী লঞ্চে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যেই টিকিট পাচ্ছি। ১০ পার্সেন্ট ছাড়ে ৩৫০ টাকায় টিকিট পেয়ে বেশ ভালো লাগছে।” কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চের এক স্টাফ বলেন, তারা সরকারি নির্দেশনা মেনে চলছেন এবং যাত্রীদের নিরাপত্তাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে মাইকিং করে অতিরিক্ত যাত্রী না নেওয়ার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।
রাজহংস-১০ লঞ্চের এক মাস্টার যোগ করেন, “ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের কোনও অভিযোগ নেই। ভোলা, বরিশাল ও মুলাদীগামী লঞ্চগুলোতে ৪০০ টাকা ভাড়া রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে এবার যাত্রীরা নির্বিঘ্নে তাদের গন্তব্যে রওনা হতে পারছেন।” মানামী লঞ্চের স্টাফের মতে, সরকার নির্ধারিত ভাড়া ১০ পার্সেন্ট কম হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে, যেখানে ডেকের ভাড়া ৩৫০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন এক হাজার টাকা এবং ডাবল কেবিন দুই হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে।
সরকারি তদারকি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বিআইডব্লিউটিএর কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত এই বিশেষ নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। কোনও লঞ্চ যদি বেশি ভিড় নিয়ে ছাড়ার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান সদরঘাট পরিদর্শন করে বলেন, “নৌপথে বাড়তি ভাড়া নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই। দক্ষিণাঞ্চলে স্বস্তির ঈদযাত্রায় লঞ্চের নির্ধারিত ভাড়া থেকেও ১০ শতাংশ ভাড়া কমিয়েছে সরকার।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দুর্ঘটনা এড়াতে লঞ্চগুলোর ফিটনেস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে এবং সদরঘাটে চাপ কমাতে বছিলা ও শিমুলিয়া লঞ্চঘাট ভবিষ্যতে স্থায়ী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে সদরঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা লক্ষ্য করা গিয়েছে, যা যাত্রীদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করছে।
