পদ্মা সেতুতে ঈদযাত্রা: যানজটমুক্ত পথ, কিন্তু ভাড়ার নৈরাজ্যে যাত্রীদের ম্লান মুখ
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন পরিবেশকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ নাড়ির টানে নিজ গ্রামের দিকে ফিরছেন। মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ সকাল থেকেই ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে এই ঈদযাত্রায় একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, পদ্মা সেতুর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।
যানজটমুক্ত যাত্রা ও টোল ব্যবস্থাপনা
সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, মহাসড়কে যানবাহনের ব্যাপক চাপ থাকলেও কোথাও কোনও ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি। পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় বড় যানবাহনের জন্য সাতটি এবং মোটরসাইকেলের জন্য তিনটি আলাদা টোল কাউন্টার চালু থাকায় দ্রুত সময়ের মধ্যে টোল আদায় সম্পন্ন হচ্ছে। এই কার্যকর ব্যবস্থাপনার ফলে টোল প্লাজায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি ছাড়াই চালকরা সেতু পার হতে পারছেন।
কোনও ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই এবারের ঈদযাত্রা সম্পন্ন করতে পেরে সাধারণ যাত্রীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে যাত্রাপথ আগের তুলনায় অনেক মসৃণ ও নিরাপদ হয়েছে, যা ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাড়তি ভাড়ায় যাত্রীদের চিন্তা
তবে এই স্বস্তির মাঝেও যাত্রীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে পরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের ঘটনা। অনেক যাত্রী সরাসরি জানান, ঈদুল ফিতরের সময় বিভিন্ন পরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। মহাসড়ক যানজটমুক্ত থাকলেও ভাড়ার ক্ষেত্রে এমন নৈরাজ্য তাদের ঈদ আনন্দ কিছুটা ম্লান করছে।
একজন যাত্রী বলেন, “যানজট নেই, পথ মসৃণ, কিন্তু ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ায় আমাদের খরচ বেড়ে গেছে। এতে ঈদের প্রস্তুতিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।”
পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা
মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জেলা পুলিশের প্রায় পাঁচশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং যাত্রী হয়রানি রোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান এসপি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমরা যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।”
সামগ্রিকভাবে, এই ঈদযাত্রায় পদ্মা সেতুর মাধ্যমে যানজটমুক্ত পরিবেশ একটি ইতিবাচক দিক, কিন্তু বাড়তি ভাড়ার সমস্যা যাত্রীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন অনেকেই, যাতে ঈদের পবিত্রতা ও আনন্দ অক্ষুণ্ণ থাকে।
