ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপে যমুনা সেতুতে যানবাহন পারাপার বেড়েছে ১০ হাজার ২১৮টি
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে থাকায় যমুনা সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপারের সংখ্যায় বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের চাপে মাত্র একদিনের ব্যবধানে এই সেতু দিয়ে অতিরিক্ত ১০ হাজার ২১৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
যানবাহন পারাপারের পরিসংখ্যান
সোমবার (১৬ মার্চ) সরকারি শেষ কর্মদিবস হওয়ায় বিকেলের পর থেকেই রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেন বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মানুষ। দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২২টি জেলার যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হওয়ায় এই বাড়তি যানবাহনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে যমুনা সেতুর ওপর।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সোমবার সেতু দিয়ে মোট ৩৫ হাজার ৬৫৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে টোল আদায় করা হয়েছে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা। এর মধ্যে পূর্বমুখী যানবাহনের সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৭৫টি এবং পশ্চিমমুখী যানবাহনের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৫৮৩টি।
এর আগের দিন রোববার এই সেতু দিয়ে ২৫ হাজার ৪৪০টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ২ কোটি ৩০ লাখ ৬ হাজার ৯০০ টাকা। সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় এবার যাত্রীদের চাপ অনেক আগে থেকেই বাড়তে শুরু করেছে।
কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা ও পরিস্থিতি
সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন যে, ঈদকে সামনে রেখে যানবাহনের চাপ বাড়লেও সেতুর দুই প্রান্তে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে যাতে যাত্রীদের কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ঈদের আগে ও পরে বিকল্প সড়কপথ না থাকায় এই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন যে, ঈদের আগের শেষ কয়েক দিনে এই ভিড় আরও বাড়তে পারে।
সিরাজগঞ্জ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মহাসড়কের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। তবে যানবাহনের এই ক্রমবর্ধমান ধারা অব্যাহত থাকলে সেতু ও এর সংযোগ সড়কগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতার প্রয়োজন হতে পারে।
ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী কয়েক দিন এই পথে যাতায়াতকারী মানুষের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



