ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বাতিল: যাত্রীদের চরম ভোগান্তি
মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বাতিল, যাত্রীদের ভোগান্তি

ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বাতিল: যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে মুঠোফোন হাতে বসে আছেন নরসিংদীর রফিকুল ইসলাম। তাঁর ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, এবং তিনি এখনো অপেক্ষা করছেন বিকল্প ব্যবস্থার আশায়। এই দৃশ্য আজ মঙ্গলবার বিমানবন্দরে সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে।

ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা ও কারণ

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার বেলা একটা পর্যন্ত মোট ৩৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ নিয়ে গত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৭টিতে। ফ্লাইট বাতিলের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধসহ উদ্ভূত নিরাপত্তাঝুঁকি।

এই পরিস্থিতিতে কাতার, কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহর ফ্লাইট পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে সৌদি আরবের রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মামের ফ্লাইট এখনো চালু আছে বলে বিমানবন্দর সূত্র নিশ্চিত করেছে।

যাত্রীদের দুর্ভোগ ও প্রতিক্রিয়া

ফ্লাইট বাতিলের কারণে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আজ দুপুরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, অনেক যাত্রীকে বাড়িতে ফেরত যেতে হচ্ছে, আবার অনেকে বিমানবন্দরেই অপেক্ষা করছেন। তাঁরা জানান, বাতিল হওয়া ফ্লাইট আবার কবে চালু হবে, সে ব্যাপারে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই, তাই তাঁরা অপেক্ষা করছেন অনিশ্চয়তার মধ্যে।

মৌলভীবাজারের দীপু চন্দ্র শীলের কথা ছিল এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে ভারতের মুম্বাই, ওমানের মাসকাট হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে যাওয়ার। তিনি বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের ফ্লাইট ধরতে খুব সকালে বিমানবন্দরে হাজির হন, কিন্তু বোর্ডিং পাসের সময় তাঁকে আটকে দেওয়া হয়। দীপু চন্দ্র শীল বলেন, ‘মৌলভীবাজার ট্রাভেলস থেকে টিকিট নিয়েছি। গতকাল রাতেও তারা বলেছে, যাওয়া যাবে। কিন্তু এখানে আসার পর আমাকে বলা হয়েছে, যাওয়া যাবে না। আমার ফ্লাইট নাকি ইন্ডিয়ার পর আর মাসকাট যাবে না। ফ্লাইট বাতিল বলতেছে। এ জন্য বাড়ি চলে যাচ্ছি।’

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা: রফিকুল ইসলামের কাহিনী

বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১–এ প্রবেশের দ্বিতীয় ফটকের বাইরে বসে অপেক্ষা করছিলেন নরসিংদীর রফিকুল ইসলাম। তাঁর কথা ছিল কাতার এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে করে কাতার হয়ে সৌদি আরবের রিয়াদ যাওয়ার। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বিমানবন্দরে হাজির হয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সৌদি আরবের রিয়াদে এমডিসিসি নামের কোম্পানিতে আসবাব তৈরির কাজ করি আমি। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দেশে এসেছিলাম। ১৭ মার্চ পর্যন্ত আমার ভিসার মেয়াদ আছে। আসার সময় ‘আপ-ডাউন’ টিকিট কেটে দিয়েছিল কোম্পানি। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় এখন কোম্পানির পক্ষ থেকে রিয়াদগামী বিকল্প উড়োজাহাজে আমার টিকিটের ব্যবস্থার চেষ্টা করা হচ্ছে। সে জন্য আমি বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছি।’

এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বাতিলের ব্যাপক প্রভাব ও যাত্রীদের উপর এর নেতিবাচক প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনগুলোর পক্ষ থেকে দ্রুত সমাধান ও বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন আক্রান্ত যাত্রীরা।