ভ্যালেন্টাইনস ডেতে ঢাকা শহর: প্রেমের রঙে সেজেছে রাজপথ থেকে ক্যাফে
জেন জির ডেটিংয়ের ভাষা যতই আধুনিক হোক না কেন, প্রেমের আবেগ যুগে যুগে একই রয়ে গেছে। হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও কংক্রিটের এই শহরে তৈরি করতে হবে 'লাল-নীল সংসার'। আজ ভ্যালেন্টাইনস ডেতে ঢাকা শহরের রঙ বদলাতে শুরু করেছে। শুকনো পাতা দখল করেছে রাজপথ, তাপমাত্রা বাড়ছে, আর শরীরে বইছে অ্যাড্রিনালিনের তরঙ্গ।
শহরের রূপবদল
আলমারি তছনছ করে খোঁজা হচ্ছে প্রিয় পোশাক, টুকরো টুকরো স্মৃতি জড়ো করে তৈরি করা হচ্ছে কার্ড। যতই 'মধ্যবিত্ত ভীরু প্রেম' হোক না কেন, আজকের দিনটি ভোলার কোনো অবকাশ নেই। প্রেমের রঙে সেজেছে শপিংমল আর ক্যাফেগুলো, 'ছাড়' চলছে প্রিয় ব্র্যান্ডগুলোতে।
প্রেম করার জায়গা খোঁজা বড় চ্যালেঞ্জ, কিন্তু ছক ভাঙার দরকার নেই। ছন্দে থেকেই খুঁজে নিতে পারেন ভ্যালেন্টাইনস ডে উদযাপনের উপযুক্ত ঠিকানা।
হেঁটে দেখা ঢাকা শহর
সঙ্গীকে নিয়ে হেঁটে দেখতে পারেন ঢাকা শহরের ব্যস্ত রাজপথ আর শান্ত অলিগলি। অলস দুপুরে হাতে হাত রেখে নিজেদের তালে এগিয়ে যান, গন্তব্য জানা নেই এমন মুহূর্তে। সঙ্গীকে জড়িয়ে কানে কানে বলতে পারেন: 'এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই'।
এটি কিছুটা সময় কাটানোর অজুহাতে প্রেমকে আরও গভীর করে তোলার সুযোগ। শহরের ইতিহাসও হতে পারে আপনার সঙ্গী - প্রেমের দিবসে একে অপরের কাছাকাছি আসার পাশাপাশি শহরকে চেনার মুহূর্ত।
হেরিটেজ ওয়াক এবং ডেটিং ডেস্টিনেশন
বেছে নিতে পারেন 'হেরিটেজ ওয়াক':
- বুড়িগঙ্গার আশপাশের এলাকা
- হোসেনি দালান বা লালবাগের কেল্লা
- ভিক্টেরিয়া পার্ক থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে সোহরাওয়ার্দী পার্ক ও রমনা পার্ক
জেন জির ডেটিং আর ক্যাফে-শপিং মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডেটিং ডেস্টিনেশন হয়ে উঠেছে শহরের ক্যাফে-রেস্তোরাঁগুলো। প্রথম দেখা থেকে 'সফট লঞ্চ' শুরু হয় এখন ক্যাফেতে বসেই। ঢাকার অলিগলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে নান্দনিক ক্যাফে। নান্দনিকতা বজায় রাখতে ঢুঁ মারতে পারেন শহরের পাবলিক লাইব্রেরিতেও।
খাবার এবং রোমান্স
ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষ্যে প্রেমের রঙে সাজানো শহর এখন সুন্দর ছবি, গরম কফি আর প্রেমালাপের 'সেফ' ঠিকানা। দুজনেই যদি ফুড লাভার হন, চেখে দেখতে পারেন শহরের নানা দোকানের সেরা খাবার। কলাবাগানের সেই মামা হালিমের দোকান এখন কেমন চলছে? জানা যাবে তিনি এখনো জীবিত আছেন কিনা। প্রেমের উষ্ণতা ছড়াতে পারে দীর্ঘ একযুগের পুরনো পছন্দের খাবার।
'এই পথ যদি না শেষ হয়/ তবে কেমন হতো তুমি বলো তো?/ যদি পৃথিবীটা স্বপ্নের দেশ হয়/ তবে কেমন হতো তুমি বলো তো।'
গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা আর হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠের এই গান গুনগুন করে গেয়ে সঙ্গীকে নিয়ে হুডখোলা রিকশায় উঠে ঢাকা শহর বিচরণ করুন। ক্ষণিকের জন্য নিজেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষ বলে গর্বিত মনে হবে।
একদিনের সফর এবং বিশেষ মুহূর্ত
আজকের দিনে ঘরে মন টিকবে না নিশ্চয়ই। এই সুযোগে লংড্রাইভে খুঁজে নিন একে অপরকে। একদিনের সফরে ঘুরে আসতে পারেন:
- সোনারগাঁওয়ের লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর
- শহরের আনাচে-কানাচে থাকা ইকো-কটেজ
- পাঁচতারকা হোটেল
- নারায়ণগঞ্জের কোনো রিসোর্ট
ব্যস্ত জীবনের মাঝে একে অন্যের সঙ্গে ছুটি কাটানোর এই সুযোগ আপনার জীবনের ডায়েরিতে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
স্মৃতিতে গাঁথা মুহূর্ত
পকেটে টান থাকলেও সঙ্গীকে ইমপ্রেস করতেই হবে। হিমেল হাওয়ায় প্রিয়জনের হাতে হাত রেখে প্রেম নিবেদন - এই স্বাদের বদল হবে না। তবু ভ্যালেন্টাইনস ডেতে এই মুহূর্তগুলো বিশেষভাবে জীবন্ত হয়ে ওঠে:
- পকেট মানি জমিয়ে ছোট্ট উপহার
- একগোছা ফুলের তোড়া
- পড়ন্ত বিকালে পছন্দের মানুষের সঙ্গে নৌকা ভ্রমণ
- সবার চোখ এড়িয়ে আলতোভাবে ঠোঁট ছুঁয়ে নেওয়া
এই মুহূর্তগুলো স্মৃতির খাতায় গেঁথে যায়, ভ্যালেন্টাইনস ডেকে আরও রঙিন করে তোলে। আর দেরি কেন? এখনই মনের মানুষকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন।
