ঢাকার নবাবগঞ্জে ইছামতী তীরের কোকিল প্যারি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা
নবাবগঞ্জের কোকিল প্যারি জমিদারবাড়ি: ইতিহাস ও বর্তমান

নবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক কোকিল প্যারি জমিদারবাড়ি: অতীতের গৌরব ও বর্তমানের ভগ্নদশা

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের মূল সড়ক ধরে এগোলে চোখে পড়ে একটি প্রাসাদোপম বাড়ি। রাজধানী থেকে এর দূরত্ব খুব বেশি নয়, মাত্র ঘণ্টা দেড়েকের পথ। ইছামতী নদীর তীরে অবস্থিত এই জমিদারবাড়িটি স্থানীয়ভাবে ‘কোকিল প্যারি জমিদারবাড়ি’ নামে পরিচিত। নিওক্ল্যাসিক্যাল স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত বাড়িটির বিশালাকার পিলারগুলো আজও অতীতের জমিদারি আমলের সাক্ষ্য বহন করে।

স্থাপত্যের নিদর্শন ও বর্তমান অবস্থা

বাড়িটির নির্মাণশৈলী দর্শকদের মুগ্ধ করে। দ্বিতল ভবনটির পিলার, কারুকাজ এবং নকশা দেখে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে হয়। তবে, বর্তমানে বাড়িটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এই ভগ্নদশাতেও এর নির্মাণকৌশল যারপরনাই আকর্ষণীয়। বাড়ির চারপাশে প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং ইছামতী নদীর শান্ত পরিবেশ এটিকে একটি ঐতিহাসিক স্থানে পরিণত করেছে।

ইতিহাস ও ব্যবহারের পরিবর্তন

১৯৫০ সালে জমিদারপ্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর এই বাড়িটির ব্যবহারে পরিবর্তন আসে। তখন থেকে এটি কোকিল প্যারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। সময়ের সাথে সাথে বাড়িটি ধীরে ধীরে অবহেলার শিকার হয় এবং শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বাড়িটি একসময় জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এলাকার সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।

বর্তমানে, বাড়িটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন। এর ঐতিহাসিক মূল্য এবং স্থাপত্যের সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। তবে, সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটি দিন দিন ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে এই স্মৃতিচিহ্ন রক্ষা করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।